22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাচট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে শীর্ষে উত্থান

চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে শীর্ষে উত্থান

বিপিএল ২০২৬ সিজনের প্রথম ম্যাচের এক দিন আগে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যবস্থাপনা ও কোচিং স্টাফে একাধিক পরিবর্তন ঘটেছিল। দলটি মালিকানা পরিবর্তন, নতুন কোচের নিয়োগ এবং টিম ডিরেক্টর হিসেবে প্রাক্তন জাতীয় অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে যুক্ত করার পরই বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল।

বাশার জানান, তিনি টুর্নামেন্টের আগের দিনই দায়িত্বে আসেন এবং দলের অবস্থা সম্পূর্ণ অস্থির ছিল। তিনি একদিনের মধ্যে দলকে গঠন করার কথা স্বীকার করে বলেন, “একদিনে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়, দলটি আগে থেকেই গঠিত ছিল, তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্নের ঘনত্ব ছিল।”

টুর্নামেন্টের সূচনা ২৬ তারিখে, আর বাশার ও অন্যান্য টেকনিক্যাল কমিটি সদস্য ২৪ তারিখে সিলেটের হোটেলে পৌঁছেছিলেন। ২৫ তারিখের সকালের নাশতার সময় বাশারকে হঠাৎ ফোনে জানানো হয় যে তাকে টিম হোটেলে তৎক্ষণাৎ আসতে হবে। মিঠু ভাই, যিনি বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল সেক্রেটারি, এই নির্দেশ দেন।

বাশার নাশতা শেষ করে, শাওয়ার নিয়ে ১২ টার দিকে টিম হোটেলে পৌঁছান। সেখানে বোর্ডের সভাপতি তাকে “টিম ডিরেক্টর” হিসেবে স্বাগত জানিয়ে অভিনন্দন জানান। তিনি স্বীকার করেন, এই খবরটি তার জন্য একধরনের বিস্ময় ছিল এবং পুরো পরিস্থিতি বুঝতে আধা ঘন্টার বেশি সময় লেগে যায়।

প্রাথমিকভাবে তিনি দলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাননি; পূর্বে তিনি কেবল মেন্টর হিসেবে কাজ করতেন। এখন পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে, তাই তিনি এই চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানান। “দলটি আগে দেখা হয়নি, কে আছে, কে নেই তা জানি না,” তিনি বলেন।

বাশার উল্লেখ করেন, বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা ছিল, কারণ তাদের আগমনের নিশ্চিতকরণ না থাকায় দল গঠন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গিয়েছিল। তবুও তিনি দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তরুণ খেলোয়াড়দের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।

প্রশিক্ষণ সেশনের সময় বাশার দলের মনোভাবের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। খেলোয়াড়রা প্রথমে সন্দেহপূর্ণ ছিল, তবে দ্রুতই একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে মাঠে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে শুরু করে। এই পরিবর্তনই পরবর্তীতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছানোর মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

বিপিএল শুরুর পর চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে তারা ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে। যদিও বাশার পূর্বাভাস ছিল যে তিন-চারটি ম্যাচ জিতলেই সন্তুষ্টি পাবেন, তবে দলটি ধারাবাহিক জয়ের মাধ্যমে শীর্ষে উঠে আসে।

দলের জয়লাভের পেছনে বাশারের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো উল্লেখযোগ্য। তিনি মাঠে মাঠে খেলোয়াড়দের ভূমিকা পুনর্বিন্যাস করেন, নতুন ফিল্ডিং প্যাটার্ন প্রয়োগ করেন এবং ব্যাটিং লাইনআপে সাময়িক পরিবর্তন আনে। এসব পরিবর্তন দ্রুত ফলপ্রসূ হয়।

বাশার বলেন, “দলটি যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন কোনো বাধা অতিক্রম করা যায় না।” এই মানসিকতা দলের জয়লাভের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিজস্ব শক্তি আছে, সেগুলোকে সঠিক সময়ে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।”

চট্টগ্রাম রয়্যালসের শীর্ষে ওঠা শুধু টিম ডিরেক্টরের নেতৃত্বের ফল নয়, বরং পুরো স্টাফ ও খেলোয়াড়দের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। বাশার দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও আত্মবিশ্বাসকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

বিপিএল শিডিউল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচটি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে। বাশার দলকে আরও জোরালো প্রস্তুতি নিতে বলছেন, যাতে শীর্ষে তাদের অবস্থান বজায় থাকে এবং চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।

বাশার শেষ কথা, “যদি আমরা এই মুহূর্তে শিখে নিই, পরের ম্যাচে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারব,”। তার এই দৃঢ়সংকল্পই চট্টগ্রাম রয়্যালসকে বিপিএল-এ নতুন দিগন্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments