গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা গেছে। মূল কারণ হল মিরপুর রোডে গোনো ভবনের সামনে একটি বিতরণ লাইন ভ্যালভ ফাটে, যার ফলে গ্যাসের প্রবাহ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ভ্যালভ ফাটল ঘটার আগে গত সপ্তাহে তুরাগ নদীর নিচে একটি বড় পাইপলাইনে লিকের রিপোর্ট ছিল। উভয় ঘটনার ফলে গ্যাস নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি শাটডাউন করা হয়।
ফাটলযুক্ত ভ্যালভের বিস্ফোরণ বিশেষ করে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউ মার্কেট, হাজরিবাগ, গাবতলি, ফার্মগেট, কাজিপাড়া এবং শেরওয়াপাড়া এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়। এই পাড়া গুলোতে রেসিডেন্টদের রান্নার জন্য গ্যাসের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (টিটিএস) প্রকাশিত প্রেস রিলিজে জানায়, লিক মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভ্যালভ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউ মার্কেট ও হাজরিবাগে গ্যাসের চাপ হ্রাস পায়।
গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় অনেক পরিবারের রান্নার চুলা ব্যবহারযোগ্য থাকে না। ফলে গৃহস্থালিগুলো ইন্ডাকশন স্টোভে রূপান্তরিত হয় অথবা কাছাকাছি রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে বাধ্য হয়। এই পরিবর্তন খাবার চাহিদা বাড়িয়ে দেয় এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটায়।
প্রভাবিত এলাকায় রেস্তোরাঁর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। গ্রাহকরা গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে খাবারের দামেও তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, একদিনে এক প্লেট ভাতের দাম ১৫ টাকার থেকে ২০ টাকায় উঠে যায়।
লিকেজের পর থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৫০ টাকার থেকে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। এই মূল্যের উত্থান রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত গ্যাসের খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং মেনু মূল্যেও প্রভাব ফেলে।
একজন রেস্তোরাঁ ম্যানেজার জানান, গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে তাদের দৈনিক রান্নার পরিমাণ বাড়তে হয়েছে। পূর্বে তারা দিনে প্রায় ২০ কেজি চাল রান্না করত, কিন্তু গ্যাসের ঘাটতির কারণে আজ ৩০ কেজি চাল রান্না করতে হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের এক গৃহিণী উল্লেখ করেন, গ্যাস না থাকায় সকালে কোনো খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাড়িতে থাকা খাবার গরম করে খাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহের অস্থায়ী বন্ধ গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক খাত উভয়েরই ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। রেস্তোরাঁ ও স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিক্রয় বাড়লেও, গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
গ্যাস কোম্পানির জন্য এই ধরনের সিস্টেমিক ব্যর্থতা ভবিষ্যতে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার গুরুত্বকে তুলে ধরে। গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নেটওয়ার্কের পুরনো ভ্যালভের আধুনিকায়ন ও লিক সনাক্তকরণ প্রযুক্তি গ্রহণ করা জরুরি।
সংক্ষেপে, গ্যাস ভ্যালভের ফাটল ও পূর্বের পাইপলাইন লিকের ফলে ঢাকার বহু পাড়ায় গ্যাস সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যা গৃহস্থালী ও রেস্তোরাঁ উভয়েরই খরচ বাড়িয়ে তুলেছে। গ্যাসের দাম ও খাবারের মূল্যের উত্থান বাজারে মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়াবে, আর অবকাঠামো উন্নয়ন ও জরুরি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী না হলে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঝুঁকি রয়ে যাবে।



