নিউ ইয়র্কের গ্রিনউড লেকে বসবাসরত ৪৪ বছর বয়সী ক্রিস্টি হ্যালোয়েল সম্প্রতি চাকরি হারানোর পর তার বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এক মাসে প্রায় তিন গুণ বাড়ে, মাসিক $১,৮০০ পর্যন্ত পৌঁছায়। বিল পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি, দুই সন্তান ও মা ছয় মাসের বেশি সময় জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে বাড়ির আলো ও তাপ সরবরাহ চালিয়ে যান।
বিলের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি এবং চাকরি হারানোর ফলে হ্যালোয়েল পরিবারকে দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। জেনারেটরের ব্যবহার তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়, যদিও তা উচ্চ জ্বালানি খরচ এবং সীমিত ক্ষমতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ছিল না।
স্থানীয় একটি অলাভজনক সংস্থা হ্যালোয়েল পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউটিলিটি কোম্পানির সঙ্গে আংশিক পরিশোধের চুক্তি সম্পন্ন করে, ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হয়। তবে গ্যাস সরবরাহ এখনও বন্ধ রয়েছে এবং শীতের আগমনে বিদ্যুৎ বিলের ধারাবাহিক বৃদ্ধি পরিবারকে আরেকটি বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে ফেলেছে। হ্যালোয়েল বর্তমানে প্রায় $৩,০০০ ইউটিলিটি ঋণ বহন করছেন।
হ্যালোয়েল এই পরিস্থিতি ‘ট্রমাটিক’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা তার আর্থিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার অভিজ্ঞতা একক নয়; সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী শীতের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় প্রতি বিশটি গৃহের একটি গৃহ ইউটিলিটি ঋণ সংগ্রহের হুমকির মুখে।
সেন্টুরি ফাউন্ডেশন ও প্রোটেক্ট বোরোয়ার্সের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা ভোক্তা ক্রেডিট ডেটা বিশ্লেষণ দেখায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম ছয় মাসে গুরুতর অতিরিক্ত ইউটিলিটি ঋণযুক্ত গৃহের সংখ্যা ৩.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যের ধারাবাহিক উত্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
নভেম্বর মাসের সরকারি অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করে যে, বিদ্যুৎ মূল্য গত বছরের তুলনায় ৬.৯% বেড়েছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি গৃহস্থালী ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন সময়ে তিনি বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তবে তার প্রশাসনের অধীনে খরচ হ্রাসের দাবি সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলেও বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক কষ্টের মূল কারণ হিসেবে পূর্ব প্রেসিডেন্ট বায়ডেনের নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারকে দায়ী করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি, সাম্প্রতিক ডেমোক্র্যাটিক জয় এবং ভোক্তা আস্থা হ্রাসের ফলস্বরূপ বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ইউটিলিটি খাতের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ভোক্তা ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা রিটেল ও সেবা খাতে বিক্রয় হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে।
শক্তি খাতের এই মূল্যস্ফীতি কোম্পানিগুলোর লাভের মার্জিনকে সংকুচিত করে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা, যাদের উৎপাদন খরচের বড় অংশ শক্তি ব্যয়, তারা মূল্যবৃদ্ধি শোষণ করতে পারবে না এবং মুনাফা হ্রাসের সম্মুখীন হতে পারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, শীতকালে ইউটিলিটি সরবরাহের বিচ্ছিন্নতা এবং ঋণ সংগ্রহের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নীতি নির্ধারকদের জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়ায় টার্গেটেড সহায়তা প্রোগ্রাম চালু করা, যাতে উচ্চ ঋণভারযুক্ত গৃহগুলোকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করা যায়। একই সঙ্গে, শক্তি মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের গৃহস্থালী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দ্রুতমূল্যবৃদ্ধি, বাড়তে থাকা ইউটিলিটি ঋণ এবং রাজনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতি আর্থিক বাজারে ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভোক্তা ব্যয়ের কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে।



