মিশরের জাতীয় দল ১-০ স্কোরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে ২০২৫ আফ্রিকা কাপের রাউন্ড‑১৬ে স্থান নিশ্চিত করেছে। লিভারপুলের তারকা মোহামেড স্যালাহ ৪৫তম মিনিটে পেনাল্টি রূপান্তর করে ম্যাচের একমাত্র গোল করেন। এই জয়টি অনুষ্ঠিত হয় মরক্কোর আগাদির শহরে শুক্রবার সন্ধ্যায়।
দুই রাউন্ডের পর গ্রুপ বি-তে মিশরের ছয় পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে দলটি শীর্ষ দুই স্থানে অগ্রসর হয়েছে, ফলে রাউন্ড‑১৬ে অগ্রিম প্রবেশের অধিকার পেয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার তিন পয়েন্টের পরেও দলটি গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, তবে অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত।
সালাহের গোলটি পেনাল্টি থেকে আসে, যা ৪৫ মিনিটের ঠিক আগে দেওয়া হয়। রেফারির সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকান রক্ষক ইয়াসার ইব্রাহিমের হাতবন্দি হওয়া সন্দেহের পর পেনাল্টি দেওয়া হয়, এবং স্যালাহ তা সফলভাবে সম্পন্ন করেন। গোলের পর মিশরের খেলোয়াড়রা মাঠে উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মিশরের ডানবিকিনি মোহামেড হানি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে লাল কার্ডে রেডেড হন, ফলে দলটি দশজন খেলোয়াড়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। হানির স্ট্যাম্পের কারণে রেফারির কঠোর সিদ্ধান্তটি ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলে।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকান রক্ষক ইয়াসার ইব্রাহিমের হাতে বল ধরা সন্দেহে রেফারিরা পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য সমান স্কোরের সুযোগ নষ্ট হয়। এই মুহূর্তে মিশরের রক্ষকরা দৃঢ়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যায়।
সালাহের আগাদিরে উপস্থিতি তার লিভারপুলের সাম্প্রতিক ম্যাচে স্টার্ট না পাওয়ার পরের ফল। লিভারপুলে পাঁচটি ধারাবাহিক গেমে তিনি দৌড়ে না থাকায় ক্লাবের কোচ আরনে স্লটের সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ পায়, যা তার আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সে অতিরিক্ত প্রেরণা যোগায়।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে স্যালাহের প্রথম সুযোগ আসে, যখন হানি একটি নিম্ন ক্রস দেন, তবে স্যালাহ যথেষ্ট দ্রুত না হওয়ায় বলের সঙ্গে সংযোগ করতে পারেন না। এই প্রাথমিক সুযোগের পরেও মিশরের আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে।
স্টেডিয়ামের ভিড়ের বেশিরভাগই মিশরের পক্ষে উল্লাস করে, যা মাঠে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। বুরুন্ডি রেফারির জিজোয়ের ফ্রি-কিকের আবেদন উপেক্ষা করার পর দর্শকরা তীব্র হুইসেলিং দিয়ে রেফারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে।
স্যালাহের আরেকটি ফ্রি-কিকের প্রচেষ্টা দক্ষিণ আফ্রিকান এলাকায় পৌঁছায়, তবে তিনজন মিশরীয় খেলোয়াড়ই বলের সঙ্গে সংযোগ করতে পারেন না। এই মুহূর্তে মিশরের আক্রমণাত্মক তীব্রতা বজায় থাকে, যদিও গোলের সুযোগ কমে যায়।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মিশরের খেলোয়াড়রা নিয়মিতভাবে বলকে প্রতিপক্ষের গোলের দিকে নিয়ে যায়, আর দক্ষিণ আফ্রিকানরা শান্তিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দৃঢ় ট্যাকল দিয়ে প্রতিরোধ করে। উভয় দলের কৌশলগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দক্ষিণ আফ্রিকান টেবোহো মকোয়েনা ওমর মারমুশকে ডি-লাইনের ঠিক বাইরে ফাউল করেন, ফলে মারমুশকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। মারমুশ, যিনি ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার, ফ্রি-কিকটি সরাসরি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করেন। এই ঘটনা ম্যাচের প্রবাহে সামান্য পরিবর্তন আনে।
গ্রুপ বি-তে এখন মিশর ছয় পয়েন্টে শীর্ষে, দক্ষিণ আফ্রিকা তিন পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে, আর অ্যাঞ্জোলা ও জিম্বাবুয়ে প্রত্যেকের এক করে পয়েন্ট রয়েছে। মিশরের পরবর্তী ম্যাচটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডে নির্ধারিত, যেখানে দলটি শীর্ষস্থান বজায় রাখতে চায়।



