শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দেশের এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) মজুতে যথেষ্ট পরিমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণকে কষ্টে ফেলছে। তিনি বলেন, এই ধরনের অমানবিক ও জনস্বার্থবিরোধী কাজ কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
মিয়া গোলাম পরওয়া উল্লেখ করেন, কৃত্রিম সংকটের ফলে এলপিজির দাম বেড়ে বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর এবং সাধারণ মানুষের জীবনের মানের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এই মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের ঘাটতি থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিবৃতিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে, মজুতদারি ও অসাধু ব্যবসায় জড়িত, তাদের সনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এলপিজি মজুতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও, কিছু ব্যবসায়ী সংস্থা অতিরিক্ত মজুত করে রাখে এবং বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করে। এই প্রক্রিয়া কেবল ভোক্তাদের আর্থিক চাপই বাড়ায় না, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে। মিয়া গোলাম পরওয়া এ বিষয়ে উল্লেখ করেন, সরকারকে বাজার মনিটরিং জোরদার করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা এ ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তি হবে।
জামায়াতে ইসলামী এই দাবির পেছনে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সরকারকে জনসাধারণের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, তা না হলে জনমতকে প্রভাবিত করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। মিয়া গোলাম পরওয়া উল্লেখ করেন, বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং সরকার ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা কমে যাবে।
এই দাবিগুলি পূর্বে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা করা অনুরূপ দাবি থেকে ভিন্ন নয়; তারা দীর্ঘদিন ধরে বাজারে মজুতদারি, মূল্য নির্ধারণের অনিয়ম এবং কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভোক্তাদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে।
অধিকন্তু, মিয়া গোলাম পরওয়া উল্লেখ করেন, কৃত্রিম সংকটের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়ছে; গৃহস্থালী রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে গৃহস্থালী ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা ইতিমধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যার সমাধান না হলে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হবে।
বিবৃতির শেষ অংশে তিনি সরকারকে বাজার মনিটরিং শক্তিশালী করার পাশাপাশি, মজুতদারী ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদান করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে একই রকম কৃত্রিম সংকটের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে এবং জনগণের আস্থা হ্রাস পাবে।
জামায়াতে ইসলামী এই দাবি উপস্থাপন করে সরকারকে জনস্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে যদি সরকার দ্রুত ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে কৃত্রিম সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।



