সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম রবিবার (১১ জানুয়ারি) তার ফেসবুক পৃষ্ঠায় একটি পোস্ট দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জনগণের ক্ষোভ, হতাশা ও অপ্রাপ্তি শোনার পাশাপাশি সরকারী দিকের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ভুল, বাস্তব সংকট ও ঘাটতিগুলোও স্বীকার করা প্রয়োজন।
গত দেড় বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর, তিনি নতুন করে কীভাবে শুরু করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শেয়ার করতে চান। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি গত দুই সপ্তাহে কয়েকশো ছাত্র ও নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। এই ব্যক্তিরা একসময় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও বিকল্প শক্তি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন।
মাহফুজ আলমের সঙ্গে কথোপকথনে অংশ নেওয়া অংশগ্রহণকারীরা প্রাথমিকভাবে হতাশা ও আস্থাহীনতার অনুভূতি প্রকাশ করেন, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই একবার আবার চেষ্টা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে এমন নাগরিকদের আহ্বান জানান, যারা বৈষম্যহীন শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং নতুন আর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোর পক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন, এবং দ্বি-দলীয় জোটের কাঠামোতে অনাগ্রহী।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন যে আদর্শিকভাবে আপোসহীন, নীতি-ভিত্তিক রাজনীতির প্রত্যাশা রাখেন এমন ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। তার পোস্টে একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রদান করা হয়েছে, যেখানে মানুষ তাদের মতামত, প্রশ্ন বা প্রস্তাবনা পাঠাতে পারবেন।
মাহফুজ আলমের রাজনৈতিক পটভূমি বিবেচনা করলে, তিনি পূর্বে সরকারে তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই নতুন উদ্যোগটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির মধ্যে একটি নতুন বিকল্পের সন্ধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, তার এই জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের প্রচেষ্টা তরুণ ও নাগরিক সমাজের একটি অংশকে সক্রিয় করতে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনী চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক তার পরিকল্পনাকে কেবলমাত্র ব্যক্তিগত পুনরায় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রধান বিরোধী দলগুলো এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কৌশল বজায় রাখছে এবং নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উদ্ভবকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, কিছু স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি মাহফুজ আলমের উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিদ্যমান দ্বি-দলীয় কাঠামোর ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে।
মাহফুজ আলমের প্রকাশিত ই-মেইল ঠিকানায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বার্তা পৌঁছেছে, এবং তিনি আগামী সপ্তাহে আরও আলোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও নীতি-নির্ভর রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাপ্ত মতামত ও প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যা জনমতকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি রূপে কাজ করবে।
সামগ্রিকভাবে, মাহফুজ আলমের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় একটি নতুন দিক যোগ করেছে, যেখানে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও নীতি-ভিত্তিক রাজনীতির আহ্বান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।



