বহু দশক ধরে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে কমেডি ও গম্ভীর চরিত্রে সমৃদ্ধ কাজের নাম লিখে থাকা টিকু তলসানিয়া গত শুক্রবার রাতেই মস্তিষ্কে স্ট্রোকের শিকার হন। শীঘ্রই তিনি মুম্বাইয়ের আন্দেরি উপশহরের কোকিলাবেন ধিরুভাই অম্বানি হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি হন। তার স্বামী ও সহকর্মী দীপ্তি তলসানিয়া এই তথ্যটি পরিবারিক সূত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দেন।
টিকু তলসানিয়া ১৯৭০-এর দশক থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সক্রিয় ছিলেন, “ইন্ডিয়া গার্ডেন”, “ব্ল্যাক স্যাপিয়ার” এবং “সুপ্রিয়া” সহ অসংখ্য হিট ছবিতে তার কমেডি টাইমিং দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তার স্বতন্ত্র হাস্যরস ও স্বাভাবিক অভিনয়শৈলী তাকে ভারতীয় বিনোদন জগতে এক অনন্য স্থান দিয়েছে।
রাতের সময় হঠাৎ করে তলসানিয়ার শ্বাসকষ্ট ও চেতনা হারিয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক সদস্য ও সহকর্মীরা তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা দ্রুত সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করে স্ট্রোকের নির্ণয় নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব অনুযায়ী তলসানিয়া হৃদযন্ত্রের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরে তার স্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যার বদলে মস্তিষ্কে রক্তনালীর রক্ত জমাট বাঁধার ফলে স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। এই স্পষ্টীকরণ গুজবের পরিস্কার দিক নির্দেশ করে।
দীপ্তি তলসানিয়া জানিয়েছেন, রোগীর বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা দল সর্বোচ্চ যত্ন নিচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তলসানিয়া বর্তমানে শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রোগীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে, তাই পরিবারিক ও বন্ধুদের কাছ থেকে ধৈর্য ও সমর্থনের অনুরোধ করা হয়েছে।
কোকিলাবেন ধিরুভাই অম্বানি হাসপাতাল মুম্বাইয়ের অন্যতম আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যেখানে নিউরোলজি ও স্নায়ু রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা কাজ করেন। তলসানিয়া বর্তমানে সি-টিএইচ-ইউ-এ (CTU) তে পর্যবেক্ষণাধীন আছেন এবং স্ট্রোকের পরিণতি কমাতে তীব্র থেরাপি চালু রয়েছে। হাসপাতালের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, রোগীর অবস্থা উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করা হয়েছে এবং মিডিয়ার কাছে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তলসানিয়ার সন্তান ও নিকটজনেরা বর্তমানে তার পাশে থেকে সমর্থন দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
বিনোদন জগতে তলসানিয়ার সহকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। বেশ কিছু অভিনেতা ও পরিচালক তার কাজের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন যে, তার অনন্য হাস্যরসের অভাব শিল্পে দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। তবে সবাই একমত যে, তার সুস্থতা ও পুনরুদ্ধারই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মস্তিষ্কে স্ট্রোকের পর রোগীর শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধার প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি ও পুনর্বাসন প্রয়োজন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তলসানিয়ার বয়স ও পূর্বের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক যত্ন ও সময়ের সাথে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
বর্তমানে তলসানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং পরিবারের কাছ থেকে নিয়মিত আপডেট পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এই মুহূর্তে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সমর্থনই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।



