28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন ও জোর্দানীয় বিমানবাহিনী সিরিয়ায় আইএসআইএস লক্ষ্যবস্তুতে বিশাল বোমা হামলা চালায়

মার্কিন ও জোর্দানীয় বিমানবাহিনী সিরিয়ায় আইএসআইএস লক্ষ্যবস্তুতে বিশাল বোমা হামলা চালায়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার জোটবাহিনী শনিবার সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস) গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে বিশাল পরিসরের বায়ু হামলা চালায়। এই অভিযানটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হয় এবং অপারেশন হকআই স্ট্রাইকের অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হামলাটি ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় মার্কিন সৈন্যদের ওপর আইএসআইএসের প্রাণঘাতী আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ক্ষমতা হ্রাস করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ও তার অংশীদার দেশের সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সেন্টকমের একটি প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, “যদি কেউ আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করে, আমরা তাকে কোথা থেকে হোক না কেন খুঁজে বের করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।” এই বার্তাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে।

হামলায় ৯০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট গুলি ব্যবহার করে ৩৫টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এই কাজটি ২০টিরও বেশি বিমান দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে, এমকিউ-৯ ড্রোন এবং জোর্দানীয় এফ-১৬।

যুদ্ধবিমানগুলোর পাশাপাশি, জোর্দানীয় বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। জোর্দানীয় এফ-১৬ ফাইটারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করেছে। এই যৌথ অভিযানটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের ভূমিকা জোরদার করে।

হামলার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান ও কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। সেন্টকমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলাফল ও ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

১৩ ডিসেম্বরের আক্রমণে কয়েকজন মার্কিন সৈন্য গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্ররোচিত করে। পূর্বে একই গোষ্ঠী সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে, ফলে এই ধরণের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকরা বলেন, এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র তৎকালীন হুমকির প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আইএসআইএসের কার্যক্রম সীমিত করার একটি কৌশলগত পরিকল্পনা। “অপারেশন হকআই স্ট্রাইকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার শূন্য সহনশীলতা পুনরায় নিশ্চিত করেছে,” একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও এই বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, “আমরা সিরিয়ার স্থিতিশীলতা ও অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত। আইএসআইএসের পুনরুত্থান রোধে আমাদের প্রতিক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুল হবে।” এই বক্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের প্রতিফলন।

সিরিয়ার সরকার এবং রাশিয়া, ইরানের মতো প্রধান অংশীদারদের কাছ থেকে এই হামলার প্রতি ভিন্নমত প্রকাশিত হয়েছে। সিরিয়ার সরকারী সূত্রগুলো হামলাকে আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছে, আর রাশিয়া ও ইরান সম্ভবত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করবে।

দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, “এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।”

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের লক্ষ্য হবে হামলার পরিণতি পর্যবেক্ষণ করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আইএসআইএসের অবশিষ্ট অবকাঠামো ধ্বংসে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সেন্টকমের মতে, ভবিষ্যতে আরও লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হলে অতিরিক্ত বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments