রেজিনা ক্যাসান্দ্রা, যিনি ডেমোক্র্যাটিক সংঘের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে করিমনগর জেলার গ্রামপঞ্চায়েত নির্বাচনে ১১ জন গ্রামীণ নারীকে ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সংবাদ জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এই নির্বাচনটি টেলেঙ্গানা রাজ্যের গ্রামীণ স্তরে নারী নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
ডেমোক্র্যাটিক সংঘের গ্রামীণ নারী নেতৃত্ব প্রোগ্রাম (RWLP) এই নির্বাচনের পেছনের মূল চালিকাশক্তি। প্রোগ্রামটি মার্জিনালাইজড সম্প্রদায়ের নারীদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, নাগরিক সচেতনতা এবং সমষ্টিগত ক্ষমতায়ন প্রদানকে লক্ষ্য করে চলেছে। বহু মাসের প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের পর এই নারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সক্ষম হয়।
করিমনগর জেলার গ্রামপঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট ৩৪টি ওয়ার্ডে প্রতিযোগিতা হয়, যার মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে RWLP-তে অংশগ্রহণকারী নারীরা জয়লাভ করে। এই নারীরা প্রধানত কৃষিকাজে যুক্ত পরিবার থেকে আসা, শিক্ষার সুযোগ সীমিত এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের নির্বাচনী প্রচারাভিযান স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠনের সমর্থনে পরিচালিত হয়।
নতুন ওয়ার্ড সদস্যদের নির্বাচিত হওয়া গ্রামপঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং কৃষি উন্নয়নসহ স্থানীয় সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবেন। এই পরিবর্তনটি গ্রামীণ সমাজে লিঙ্গ সমতা ও উন্নয়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
রেজিনা ক্যাসান্দ্রা এই ফলাফলকে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মঞ্চে নারীর উপস্থিতি বাড়লে নীতি নির্ধারণে বৈচিত্র্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এই জয়টি ডেমোক্র্যাটিক সংঘের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের পথে একটি দৃঢ় পদক্ষেপ।
টেলেঙ্গানা রাজ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন সংরক্ষণ নীতি প্রয়োগ করেছে। তবে বাস্তবায়নে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক বাধা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা। এই নির্বাচনী সাফল্যটি ঐ নীতিগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
স্থানীয় জনগণ নতুন ওয়ার্ড সদস্যদের প্রতি আশাবাদী। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন, এই নারীরা তাদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং পুরুষ প্রধান নেতৃত্বের তুলনায় বেশি সংবেদনশীলতা ও সমঝোতা প্রদর্শন করবে। নির্বাচনের পরই বেশ কিছু গ্রামেই উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক সংঘের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আরও বেশি গ্রামে RWLP চালু করা। লক্ষ্য হল প্রতি বছর অন্তত ৫০টি নতুন নারীকে নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তাদেরকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা। সংগঠনটি স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে কাজ করছে।
এই ধরনের নারী নেতৃত্বের বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন গ্রামীণ স্তরে নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে, তখন নীতি ও প্রকল্পগুলো অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হবে। রেজিনা ক্যাসান্দ্রার মতো পাবলিক ফিগারদের সামাজিক কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতি এই পরিবর্তনের ত্বরান্বিত করতে সহায়ক।
অবশেষে, এই নির্বাচনী জয়টি শুধু ১১টি ওয়ার্ডের জন্য নয়, বরং টেলেঙ্গানা ও সমগ্র দেশের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ মাইলফলক। এটি দেখায় যে সঠিক প্রশিক্ষণ, সমর্থন ও সচেতনতা দিয়ে গ্রামীণ নারীরাও রাজনৈতিক মঞ্চে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী এই পথে অগ্রসর হবে বলে আশা করা যায়।



