19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিনোদন১৯৯৮ সালে ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’ চলচ্চিত্রের সফলতা ও অস্কার জয়

১৯৯৮ সালে ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’ চলচ্চিত্রের সফলতা ও অস্কার জয়

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরের একদিন, মিরাম্যাক্সের ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’ বড় পর্দায় আলোতে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মন জয় করে। চলচ্চিত্রটি শেক্সপিয়ারের কাল্পনিক প্রেমকাহিনীকে কেন্দ্র করে রোমিও ও জুলিয়েটের সৃষ্টির পেছনের গল্প তুলে ধরে, যা একই বছর অস্কার পুরস্কার বিতরণে সর্বাধিক মনোযোগ পায়।

প্রকল্পটি মূলত ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে শুরু হয়। তখন স্টুডিওটি এডওয়ার্ড জিককে পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োগ করে, যিনি মার্ক নরম্যানের স্ক্রিপ্টে কাজ করেন, যেখানে শেক্সপিয়ারের প্রেমিক জীবনের কল্পিত দিকগুলোকে রোমান্টিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জিকের সঙ্গে টম স্টপার্ডকে পুনর্লিখনের জন্য যুক্ত করা হয়, এবং জুলিয়া রবার্টসকে ভায়োলা চরিত্রে বসাতে হলে ইউনিভার্সাল রিকোয়েস্টে এক মিলিয়ন ডলারের বেতন অনুমোদন করে।

প্রযোজনার প্রথম পর্যায়ে শেক্সপিয়ারের চরিত্রের কাস্টিং এখনও অমীমাংসিত ছিল। ড্যানিয়েল ডে-লুইসকে জ্যাকের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তিনি প্রকল্প থেকে সরে যান। রবার্টসের প্রত্যাহার পর ইউনিভার্সাল প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলার ব্যয় সত্ত্বেও প্রযোজনাটি বন্ধ করে দেয়।

১৯৯৪ সালে জিকের ‘লেজেন্ডস অব দ্য ফল’ সাফল্যের পর, মিরাম্যাক্সের হ্যারি ওয়াইনস্টেইন প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। তিনি অধিকার ক্রয় করে জোন ম্যাডেনকে পরিচালকের দায়িত্বে রাখেন, আর জিক প্রোডিউসার হিসেবে যুক্ত থাকেন। ভায়োলা চরিত্রের জন্য কেট উইনসেটসহ কয়েকজন নাম বিবেচনা করা হয়, শেষ পর্যন্ত গুইনেথ প্যালট্রোকে নির্বাচিত করা হয়। শেক্সপিয়ার চরিত্রে জোসেফ ফিয়েন্সকে বাছাই করা হয়; তার বড় ভাই রালফ পূর্বে এই ভূমিকায় অডিশন দিয়েছিলেন। গ্যোফ্রি রাশ, কলিন ফারথ, বেন অ্যাফ্লেক এবং জুডি ডেনচও প্রধান কাস্টে অন্তর্ভুক্ত হন।

সম্পাদকের দৃষ্টিকোণ থেকে, চলচ্চিত্রের সাফল্য তার হাস্যরস ও রোমান্সের সমন্বয়ে নিহিত। শেক্সপিয়ারের শব্দখেলা থেকে শুরু করে বিস্তৃত স্ল্যাপস্টিক পর্যন্ত, সবকিছুই সূক্ষ্মভাবে সাজানো হয়েছে, যা দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করে। ১৯৯৮ সালের ১১ ডিসেম্বর চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় এবং দ্রুত বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য অর্জন করে, মোট আয় প্রায় ২৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান মুদ্রায় প্রায় ৫৭৫ মিলিয়ন ডলার সমান।

মুক্তির পর থিয়েটার হলিভুড রিপোর্টারদের প্রশংসা পায়, যেখানে চলচ্চিত্রটি ‘অসাধারণভাবে বিনোদনমূলক’ হিসেবে বর্ণিত হয়। একই বছর চলচ্চিত্রটি ১৩টি অস্কার নোমিনেশন পায়, যা সেই সময়ের সর্বোচ্চ সংখ্যা। অস্কার পুরস্কার বিতরণে ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’ ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’কে অতিক্রম করে সেরা ছবি পুরস্কার জিতে নেয়। গুইনেথ প্যালট্রো সেরা অভিনেত্রী পুরস্কারসহ মোট সাতটি অস্কার জিতে, যা ওয়াইনস্টেইনের ‘ফর ইউর কনসিডারেশন’ ক্যাম্পেইনের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওয়াইনস্টেইনের তীব্র প্রচার কৌশলটি চলচ্চিত্রের বিজয়ে বড় ভূমিকা রাখে এবং অস্কার ক্যাম্পেইনের পদ্ধতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তার কৌশলটি শিল্পের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে, তবে একই সঙ্গে ‘শেক্সপিয়ার ইন লাভ’কে ইতিহাসের অন্যতম সফল রোম্যান্টিক নাট্য চলচ্চিত্র হিসেবে স্থাপন করে।

আজও এই চলচ্চিত্রটি শেক্সপিয়ারের জীবনের কল্পিত দিকগুলোকে আধুনিক দর্শকের কাছে উপস্থাপন করার একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। তার সাফল্য, কাস্টের পারফরম্যান্স এবং ক্যাম্পেইনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments