অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের পর, মাহফুজ আলম আবার রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি শনিবার রাত ১২টার দিকে ফেসবুকে একটি পোস্টে জানান, নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর আশায় একসময় উচ্ছ্বাসিত কিছু তরুণ ও নাগরিকের সঙ্গে আলোচনা করার পর তিনি আবার চেষ্টা করতে চান। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই সপ্তাহে তিনি কয়েক শ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বিকল্প শক্তি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন।
আলোচনার সময় তিনি তাদের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতার চিহ্ন লক্ষ্য করেন এবং এ পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, সবাই একসাথে আবার চেষ্টা করার ইচ্ছা পোষণ করে। তিনি এই গোষ্ঠীর কাছে আহ্বান জানান, যারা বৈষম্যহীন শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং নতুন আর্থ-রাজনৈতিক কাঠামোর পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে, দ্বিদলীয় জোটের প্রতি অনাগ্রহী, আদর্শে অটল এবং নীতি-ভিত্তিক রাজনীতির প্রত্যাশা করে, তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করুক।
মাহফুজ আলম আরও উল্লেখ করেন, তিনি জনগণের ক্ষোভ, হতাশা এবং অপ্রাপ্তি শোনার পাশাপাশি নিজেরা যেখানে ভুল করেছে, বাস্তব সংকট ও ঘাটতি রয়েছে সেসব বিষয়েও আলোচনা করতে চান। তিনি গত দেড় বছরের রাজনৈতিক পর্যালোচনা শেষে কীভাবে নতুন করে শুরুর সম্ভাবনা তৈরি করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করতে ইচ্ছুক। এই উদ্দেশ্যে তিনি পোস্টে একটি ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করে আগ্রহীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দিয়েছেন।
পোস্টের শেষে তিনি ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা যোগ করেন, যেখানে নতুন রক্ত, উচ্চ আদর্শ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এই বার্তাটি “We need fresh blood. We need new people with higher ideals and long-term commitment” হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। শেষের দিকে তিনি “#Justice_for_shahid_Osmane_Hadi” হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছেন।
মাহফুজ আলমের এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন শক্তির উদ্ভবের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি যেসব তরুণ ও নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যাশা ও হতাশা যদি সঠিকভাবে চ্যানেল করা যায়, তবে একটি স্বতন্ত্র ও নীতি-ভিত্তিক দল গঠনের ভিত্তি স্থাপন হতে পারে। তবে এই প্রচেষ্টার সফলতা নির্ভর করবে কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে তিনি এবং তার সমর্থকরা সংগঠন গঠন, নীতি নির্ধারণ এবং জনমত গঠন করতে সক্ষম হবেন তার ওপর।
অবশ্যই, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে দ্বিদলীয় জোটের প্রভাব এখনও শক্তিশালী, এবং নতুন গোষ্ঠীর জন্য জোটের বাইরে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র অবস্থান গ্রহণ করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবু, যদি মাহফুজ আলমের আহ্বানটি যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক বিকল্পের পরিসর প্রসারিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি-ভিত্তিক প্রতিযোগিতা দেখা দিতে পারে।
এই সময়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, মাহফুজ আলমের পুনরায় সক্রিয় হওয়া একটি সংকেত হতে পারে যে, দেশের রাজনৈতিক শীর্ষে নতুন শক্তির চাহিদা বাড়ছে। তিনি যদি সত্যিই তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে তার উদ্যোগের বাস্তবায়ন এবং জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতা এখনও সময়ের পরীক্ষা হবে।



