ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল মন্ত্রণালয় শনিবার গ্রোক নামে xAI-র চ্যাটবটের সেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ব্যবহারকারীদের অনুরোধে X (পূর্বে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত যৌনকেন্দ্রিক, অ-সম্মতিপ্রাপ্ত ডিপফেকের বর্ধিত সংখ্যা, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক ও নাবালিকাদের ছবি ব্যবহার করে সহিংসতা ও নির্যাতনের দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, অ-সম্মতিপ্রাপ্ত যৌন ডিপফেক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং ডিজিটাল পরিবেশে নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তার হুমকি। এ বিষয়ে X-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি বৈঠকও আয়োজন করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশও একই সমস্যার মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় xAI-কে নির্দেশ দিয়েছে যাতে গ্রোকের মাধ্যমে আপত্তিকর বিষয়বস্তু তৈরি রোধ করা যায়। ইউরোপীয় কমিশনও কোম্পানিকে গ্রোক সম্পর্কিত সব নথি সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে তদন্তের ভিত্তি হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক Ofcom জানিয়েছে, গ্রোকের বিষয়বস্তু নিয়ে সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘন আছে কিনা তা দ্রুত মূল্যায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও Ofcom-কে এই বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান প্রশাসন এই বিষয় নিয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি, যদিও xAI-র সিইও ইলন মাস্ক পূর্বে ট্রাম্প সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক সেনেটররা অ্যাপল ও গুগলকে X অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছেন।
xAI প্রথমে গ্রোকের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে একটি ক্ষমাপ্রার্থনা প্রকাশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে কিছু পোস্ট নৈতিক মানদণ্ড এবং সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে। পরবর্তীতে কোম্পানি এআই-ভিত্তিক চিত্র সৃষ্টির ফিচারটি সীমাবদ্ধ করে।
এই ঘটনার ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন তীব্রতর হয়েছে। গ্রোকের মতো চ্যাটবটের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া যৌন বিষয়বস্তু তৈরি করা সম্ভব হওয়ায়, সরকার ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ডিপফেক প্রযুক্তি যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবহার করা হয়, তবে তা সামাজিক আস্থা ক্ষুণ্ন করে এবং ভুক্তভোগীদের মানসিক ক্ষতি বাড়ায়। তাই কন্টেন্ট ফিল্টারিং, ব্যবহারকারী যাচাই এবং স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ সিস্টেমের উন্নয়ন জরুরি।
ইন্দোনেশিয়ার এই অস্থায়ী ব্লকিং পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যান্য দেশও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায়, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
কোম্পানিগুলোকে এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায়, গ্রোকের মতো এআই সেবার ব্যবহারিক নীতি নির্ধারণে আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার কাজ ত্বরান্বিত হওয়া দরকার। এদিকে, ব্যবহারকারীদেরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আপত্তিকর কন্টেন্টের উৎপাদনে অংশ না নেয়।
সারসংক্ষেপে, ইন্দোনেশিয়া গ্রোকের অ-সম্মতিপ্রাপ্ত যৌন ডিপফেকের বিরুদ্ধে অস্থায়ী অ্যাক্সেস বন্ধের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, আর অন্যান্য দেশও সমমানের নীতি প্রণয়নে কাজ করছে। এই ঘটনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সমন্বিত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেছে।



