ম্যাকলেসফিল্ড টাউন এফসি ২০২৩ সালের এফএ কাপের রাউন্ডে ডিফেন্ডার ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে দেশের ফুটবলে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই জয়টি ক্লাবের পুনর্জন্মের গল্পের শীর্ষে দাঁড়িয়ে, শহরের বাসিন্দা ও সমর্থকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাকলেসফিল্ড টাউন এফসি ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে ২০২০ সালে আর্থিক সংকটের কারণে ক্লাবের নামের শেষ অক্ষরগুলোই কবরের শিলায় খোদাই হয়ে গিয়েছিল। লিগ টু থেকে অবনতি, ধারাবাহিক পয়েন্ট শাস্তি এবং কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবের ফলে ক্লাবটি সেপ্টেম্বর ২০২০-এ রিসিভারসের হাতে হস্তান্তরিত হয়। শহরের মানুষ দীর্ঘ সময়ের জন্য মস রোজ স্টেডিয়ামে ফুটবল দেখতে না পেয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ডুবে থাকে।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী রব স্মেথার্সটের দৃষ্টি মস রোজের দিকে ফিরে আসে। তিনি রাইটমুভের মাধ্যমে স্টেডিয়ামের ফিক্সচার ও ফিটিংস কিনে নেন এবং প্রায় চার মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। এই সিদ্ধান্তটি, যদিও তাড়াহুড়োতে নেওয়া হয়, ক্লাবের পুনর্জন্মের ভিত্তি স্থাপন করে।
স্মেথার্সটের উদ্যোগে মস রোজে ৪জি (৪-গেজ) পিচ স্থাপন করা হয়, যা পূর্বে ক্রিস্টাল প্যালেসের খেলায় সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। নতুন পিচটি সপ্তাহের যে কোনো দিন প্রশিক্ষণ ও ম্যাচের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে, ফলে টিকিট বিক্রি ও স্থানীয় ব্যবসার আয় বৃদ্ধি পায়। এই আধুনিক পিচের উপস্থিতি ক্লাবের আর্থিক স্বাস্থ্যের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্টেডিয়ামের অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি, জিম সুবিধা ও উচ্চমানের বারও গড়ে তোলা হয়। এই স্থানগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দারা ইউরো ২০২০ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ম্যাচ দেখার জন্য একত্রিত হন, যা ক্লাবকে একটি সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ম্যাচের দিনগুলোতে মাঠের পাশে পানীয় সরবরাহের অনুমতি থাকায়, ভক্তরা পিচসাইড টেরেসে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন।
এফএ কাপের রাউন্ডে ম্যাকলেসফিল্ডের মুখোমুখি হয় ডিফেন্ডার ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে। উভয় দলের খেলোয়াড়ের নাম ও স্কোরের কোনো বিশদ প্রকাশ না করেও, ম্যাকলেসফিল্ডের জয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জয়টি ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এফএ কাপের হোল্ডারকে পরাজিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
ম্যাচের পর স্টেডিয়ামের চারপাশে ভক্তদের আনন্দময় উদযাপন দেখা যায়। অনেকেই ধীরে ধীরে স্টেডিয়াম ত্যাগ করে, জয় উদযাপনের জন্য একে অপরের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যান। এই মুহূর্তে শহরের মানুষদের মুখে গর্বের হাসি ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তার পর এক নতুন আশার সঞ্চার করে।
ম্যাকলেসফিল্ডের এই সাফল্য শুধু ফুটবলের মাঠে নয়, বরং সমগ্র সম্প্রদায়ের ঐক্যের প্রতিফলন। ক্লাবের পুনর্জন্ম ও এফএ কাপের জয় দেখায় যে, স্থানীয় সমর্থন ও সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি নিঃশেষিত ক্লাবও আবার উজ্জ্বল হতে পারে।
ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী রাউন্ডে তারা এফএ কাপের আরেকটি প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা আবারও তাদের দক্ষতা ও দৃঢ়সংকল্পের পরীক্ষা হবে। এছাড়া, লিগের নিয়মিত ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা ক্লাবের অন্যতম অগ্রাধিকার।
ম্যাকলেসফিল্ডের এই উত্থান কেবল একটি ক্রীড়া সংবাদ নয়, এটি একটি সামাজিক পুনর্জন্মের গল্প, যেখানে শহরের মানুষ, উদ্যোক্তা ও ক্লাবের কর্মীরা একসাথে কাজ করে একসময় নিঃশেষিত ক্লাবকে আবার ফুটবলের মানচিত্রে ফিরিয়ে এনেছে।
এই জয়টি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের সূচনা হতে পারে, তবে তা অর্জনের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, সমর্থকদের সমর্থন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। ক্লাবের পরিচালনা দল ও সমর্থকরা একসাথে এই পথে অগ্রসর হওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছে।



