বিনোদন জগতের পরিচিত নাম টিকু তলসানিয়া শুক্রবার রাতের দিকে মস্তিষ্কের স্ট্রোকের শিকার হয়ে মুম্বাইয়ের আন্দেরি এলাকায় অবস্থিত কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।
তার স্ত্রী দীপতি তলসানিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হননি, বরং মস্তিষ্কের রক্তনালীর আঘাতে স্ট্রোক হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তিনি পরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন।
দীপতি তলসানিয়া জানান, টিকু তলসানিয়া সন্ধ্যা আটটায় একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন এবং তখনই অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। অস্বস্তি বাড়তে থাকায় তিনি দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
প্রায় নয়টায় আন্দেরির পিভিআর আইকন থিয়েটারে গুজরাটি চলচ্চিত্র “মন তানে না সমঝায়ে” দেখার সময় তিনি বমি করতে শুরু করেন। বমি করার পর অবিলম্বে তাকে চেয়ারে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
রোগীকে হুইলচেয়ারে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, চিকিৎসা দল দ্রুত মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন সমস্যার মোকাবিলায় জরুরি সেবা প্রদান করে। স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ এখনো চলমান।
হাসপাতালের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক আপডেট পাওয়া যায়নি, তবে পরিবার রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল কিনা তা সম্পর্কে তথ্য শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে।
টিকু তলসানিয়া হলেন দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে কমেডি চরিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জনকারী একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা। তিনি “ইন্ডিয়া গার্লস”, “দ্য সিক্রেট গার্লস” এবং টেলিভিশন সিরিজ “বাঁধা সিঁদুর” সহ বহু হিট প্রোডাকশনে কাজ করেছেন।
তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি হাস্যরসের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন, আর তার স্বতন্ত্র শৈলী ও timing-কে সমালোচক ও দর্শক উভয়ই প্রশংসা করেছেন। এই মুহূর্তে তার স্বাস্থ্যের খবর ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়; বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ধূমপানের ইতিহাস থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন। টিকু তলসানিয়ার মতো বয়স্ক শিল্পীদের স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো জরুরি।
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা রোগীর জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুখের একপাশে অবনতি, হাত বা পায়ে দুর্বলতা, কথা বলতে অসুবিধা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং হঠাৎ মাথা ঘোরা—এইসব লক্ষণ দেখা দিলে “FAST” (Face, Arms, Speech, Time) পদ্ধতি অনুসরণ করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।
পাঠকবৃন্দকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, যদি নিজের বা আশেপাশের কেউ অনুরূপ উপসর্গ অনুভব করে, তবে সময় নষ্ট না করে নিকটস্থ হাসপাতালে জরুরি সেবা গ্রহণ করুন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।



