22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড নীতি চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ছে

ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড নীতি চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ছে

মার্কো রুবিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই বৈঠকটি ডেনমার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন থেকে পূর্ণ স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হওয়া তার ভূখণ্ডিক স্বার্থকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। ডেনমার্কের সরকার এখন এই দ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি।

ট্রাম্প শাসনকালে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তেজনা বাড়ে। এমন সংকেত ডেনমার্কের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে।

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যাপক মাইকেল ভেডবি রাসমুসেনের মতে, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় তার সব কূটনৈতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত দ্বীপটি স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হলে ডেনমার্কের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় ডেনমার্কের আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর বড় চাপ আসবে।

ভৌগোলিকভাবে গ্রিনল্যান্ড ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে সংযুক্ত করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান অপরিহার্য, এবং এই বিষয়টি ডেনমার্কের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

গ্রিনল্যান্ডের সব রাজনৈতিক দল এখন স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। প্রধান বিরোধী দলও কোপেনহেগেনকে বাদ দিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ডেনমার্কের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে গ্রিনল্যান্ডকে তার বাসিন্দাদের সম্পদ হিসেবে দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো ন্যাটো সদস্যের ওপর আক্রমণ হয়, তা পুরো জোটের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের জন্য বড় বোঝা। প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি ডলার গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ব্যয় হয়, যার বেশিরভাগ অংশ অনুদান ও প্রতিরক্ষা খাতে যায়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে ডেনমার্ককে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ প্রদান করা হয়।

ডেনমার্কের বিশ্লেষকরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন চাওয়া নাগরিকদের জন্য এত বড় আর্থিক সমর্থন কতটা যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে, কিছু বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেন যে এই ব্যয় শুধুমাত্র অর্থের বিষয় নয়, বরং শতবর্ষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতিফলন।

রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে সাম্প্রতিক সামরিক কার্যকলাপ ডেনমার্কের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চাহিদা, গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং ডেনমার্কের বাজেট সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।

আসন্ন বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং স্বাধীনতার সম্ভাব্য পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনার ফলাফল ডেনমার্কের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কৌশল এবং আর্কটিকের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments