ঢাকা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ – যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শেষ সেশনে শুল্ক হারের হ্রাস নিয়ে মূল চুক্তি চূড়ান্তের দিকে অগ্রসর হওয়া দেখা গেছে।
বাণিজ্য আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের পরিমাণ কমানো। আলোচনার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে, যা রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এই প্রস্তাবটি বিশেষ করে পোশাক, চামড়া ও জুতা শিল্পে বড় সুবিধা নিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, শুল্ক হ্রাসের ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। একই সঙ্গে, রপ্তানিকৃত পণ্যের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা সম্ভব। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশ সহজতর করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেন।
বাণিজ্য আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সেবা খাতের প্রবেশাধিকার। উভয় পক্ষই সেবা রপ্তানির শর্তাবলী সহজতর করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এই আলোচনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যও উল্লেখযোগ্য। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের পরিবর্তে নৈতিকতার ভিত্তিতে বাণিজ্য নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। যদিও তার বক্তব্য সরাসরি আলোচনার অংশ নয়, তবু এটি উভয় দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতির ফলে দেশের রপ্তানি সংস্থাগুলি ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। রপ্তানি সমিতির প্রধান বলেন, শুল্ক হ্রাসের ফলে রপ্তানি চুক্তির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দিকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রতিবাদ মিছিলের প্রতিবেদনও রয়েছে। যদিও এই প্রতিবাদগুলো সরাসরি বাণিজ্য আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নয়, তবু উভয় দেশের নাগরিকদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের উৎপাদন খরচ কমবে এবং মুনাফা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে এই পরিবর্তন নতুন অর্ডার আকর্ষণে সহায়ক হবে, যা কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে, শুল্ক হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারীদের মান ও গুণগত মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই, সরকারকে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার এই নতুন পর্যায়টি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি ও বাণিজ্য কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা, সেবা খাতের প্রবেশের সহজতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ানোর দিকগুলোকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারকরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
অবশেষে, উভয় দেশের সরকারই এই অগ্রগতিকে টেকসই করে তোলার জন্য নিয়মিত সমন্বয় সভা চালিয়ে যাবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হবে। এই প্রক্রিয়া দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।



