ঢাকার বনাস্রি এলাকায় ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতেমা আহতার নিলার মৃতদেহ আজ সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মৃতদেহের পরিচয় ১৮ বছর বয়সী ফাতেমা আহতার নিলা, যিনি রেডিয়ান্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থী এবং হাবিগঞ্জের বাসিন্দা। তার পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ তাকে নাম ও বয়সের সঙ্গে তালিকাভুক্ত করেছে।
ফাতেমা তার পরিবারসহ দক্ষিণ বনাস্রি ব্লক এল-এ বসবাস করতেন। বাড়িটি তার পরিবারের স্বাভাবিক বাসস্থান, যেখানে তিনি অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন।
পুলিশের মতে, সন্ধ্যা ৫টায় স্থানীয় বাসিন্দা থেকে তথ্য পাওয়া যায় যে বাড়িতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি সম্ভবত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে ঘটেছে।
মৃতদেহ পাওয়ার সময় ফাতেমার বাবা-মা গ্রাম থেকে ফিরে আসেননি; তারা ৭ জানুয়ারি তারিখে গ্রামে গিয়ে ছিলেন। তাই ঘটনার সময় বাড়িতে কেবল ফাতেমা এবং তার বয়স্ক বোন ছিলেন।
বোনটি ঘটনাকালে জিমে গিয়েছিল বলে জানা যায়। ফলে বাড়িতে কেবল ফাতেমা একা ছিলেন, যা ঘটনার সময়ের প্রেক্ষাপটকে স্পষ্ট করে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ফাতেমার মোবাইল ফোন বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং দরজা অর্ধে খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া শারীরিক ক্ষতচিহ্ন হিসেবে গলায় চিহ্নিত আঘাতের দাগ দেখা গেছে।
পুলিশের অনুমান অনুযায়ী, গলা চেপে ধরার পর গলা কেটে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
হত্যার সন্দেহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, পুলিশ বাড়ির দরজা খোলা এবং ফোনের অনুপস্থিতি থেকে ইঙ্গিত পেয়েছে যে অপরাধীর প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
মৃত্যুর কারণ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্ণয়ের জন্য তদন্ত চলছে। বিশেষ করে, কোনো পরিচিত ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, ফাতেমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যৎ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মরগে পাঠিয়ে অটোপসি করা হয়েছে। অটোপসির ফলাফল পাওয়ার পর হত্যার প্রকৃত পদ্ধতি ও সম্ভাব্য সন্দেহভাজন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।



