শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের একটি হোটেলে দেশের প্রধান দৈনিক, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক-সদস্যদের সমাবেশে বিএনপি’র নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানিয়েছেন, দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে প্রেসের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শকে নীতি নির্ধারণের অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে, যাতে জনগণের সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা যায়।
তারেক রহমানের এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে দলটির নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। পরিকল্পনার একটি মূল দিক হল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা, যা দেশের প্রায় অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে এবং গড়ে প্রতি পরিবারে পাঁচজন সদস্য রয়েছে; এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবার কার্ডের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক সেবা ও কল্যাণমূলক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সমালোচনা সম্পর্কে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমালোচনা কেবল বিরোধের জন্য নয়, বরং বাস্তব সমস্যার শনাক্তকরণ এবং সমাধানের দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, যদি দল সরকার গঠন করে, তবে মিডিয়ার কাছ থেকে প্রাপ্ত গঠনমূলক মতামতকে নীতি প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে জনগণের মঙ্গলে কাজ করা যায়।
তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা ২৫ ডিসেম্বরের পরই রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মোড় নেয়। তিনি যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের বেশি সময় কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন, এবং ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র মৃত্যুর দশ দিন পরই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হন। এই ঘটনাগুলি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
পরবর্তী দিনেই, তারেক রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ সমাধানের জন্য আলোচনা ও সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন, সংঘাতের বদলে শান্তিপূর্ণ আলোচনা মাধ্যমে পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব, যা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
আলোচনার সময় তিনি মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘I have a dream’ বক্তৃতার উল্লেখ করে নিজের পরিকল্পনাকে ‘I have a plan’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই পরিকল্পনার মধ্যে নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পরিবারভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত, যদিও নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি।
বিএনপি’র এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং মিডিয়ার সঙ্গে সংলাপের আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। শ্রীমতি শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং বিরোধী দলগুলো জনমত গঠন ও সমর্থন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।
অংশগ্রহণকারী সম্পাদক-সদস্যরা তারেক রহমানের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মিডিয়ার তত্ত্বাবধানমূলক ভূমিকা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত সংবাদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য দল ও সরকার উভয়েরই দায়িত্ব, এবং ভবিষ্যতে দলটির কার্যক্রমের উপর নিবিড় নজর রাখবে।



