শুক্রবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলার চল্লিশা উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের চল্লিশাকান্দা রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কা ঘটায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু। ঘটনাটি ঘটেছে যখন স্থানীয় অটো রাইস মিলের কর্মীরা রেল লাইনের পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ট্রেনের গতি ও সময়সূচি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে যে শ্রমিকরা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে রেল লাইনের পার্শ্বে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
মৃতদেহের মধ্যে ছিলেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার মালিজাকান্দা গ্রাম থেকে আসা ২৫ বছর বয়সী রাসেল ইসলাম এবং দিনাজপুর জেলার চিরিবন্দর উপজেলার ছোটবাউল গ্রাম থেকে ২৪ বছর বয়সী আকাশ রায়। উভয়ের নাম স্থানীয় প্রশাসনিক রেকর্ডে পাওয়া যায় এবং তাদের পরিবারকে শোক প্রকাশের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় জীবন কুমার সাহার অটো রাইস মিলে প্রায় পনেরোজন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। শনিবার মিলটি বন্ধ থাকায় কিছু কর্মী বিকেলে ঘুরে বেড়াতে বেরিয়ে রেল লাইনের পার্শ্বে গিয়েছিলেন। মিলে কাজের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনের ধাক্কা ঘটার সময় রেল লাইনের পার্শ্বে উপস্থিত ছিল কয়েকজন কর্মী, যাদের মধ্যে রাসেল ও আকাশ ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ দল দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার কারণ নির্ণয় করে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত ডাঃ শ্রদ্ধানন্দ নাথের মতে, সন্ধ্যা সাতটায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনেরই প্রাণ হারিয়ে যায়। ডাঃ নাথ উল্লেখ করেছেন যে শারীরিক আঘাতের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর ছিল, যা দ্রুত চিকিৎসা সত্ত্বেও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
চাউলকল মালিক সমিতির সভাপতি এইচ আর খান পাঠান সাকি জানান, দুর্ঘটনার দিন পুরো জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মীরা রেল লাইনের পার্শ্বে ঘুরে বেড়াতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কা লেগে দুজনের মৃত্যু হয়। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের তদন্তে রেলওয়ে বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রেনের গতি, সময়সূচি এবং রেল লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা মানবিক অবহেলা আছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রেল লাইনের পার্শ্বে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রেল লাইনের আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাচল সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা করছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সমাজ শোকাহত, আর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট প্রদান করা হচ্ছে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পর প্রয়োজনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনা রেল নিরাপত্তা ও শ্রমিক সুরক্ষার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে।



