চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়ে এক শিক্ষককে হেনস্তা ও টেনে‑নিয়ে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি শনি রাত (১০ জানুয়ারি) ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে নিন্দা পেয়েছে।
এই ঘটনার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে ঘটনাটিকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো মতবিরোধ বা বিতর্কের সমাধান আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে, ‘মব জাস্টিস’ বা গোষ্ঠীভিত্তিক হিংসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা জোর দিয়ে বলেছে, শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব স্পষ্ট।
ফোরামের সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ছাত্র সংগঠন নির্বাচনী জয়লাভের পর ক্যাম্পাসে ‘মব কালচার’ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সতর্ক করেছেন, যদি শিক্ষক নিপীড়নের প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে শিক্ষার মান ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফোরামের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে সব ক্যাম্পাসে ‘মববিরোধী’ কঠোর নীতি প্রয়োগের প্রস্তাবও করা হয়েছে। শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ক্যামেরা নজরদারি এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফোরাম এছাড়াও জাবি শিক্ষক সমিতিকে অনুরোধ করেছে, অনুরূপ অন্যায় ঘটনার বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে। তারা উল্লেখ করেছে, শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করা না হলে শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস পাবে এবং সমাজের ভবিষ্যৎ প্রভাবিত হবে।
এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ফোরাম দাবি করেছে, শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ তদন্ত যথেষ্ট নয়; পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পাসে হিংসা ও হেনস্তা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করে এবং শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা সুপারিশ করেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত।
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে ফোরাম জোর দিয়ে বলেছে, নীতি গঠনই যথেষ্ট নয়; বাস্তবায়ন পর্যায়ে কঠোর তদারকি দরকার।
এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা যদি কোনো হিংসাত্মক কার্যকলাপের সাক্ষী হয়, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এভাবে সমষ্টিগতভাবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
শেষে, শিক্ষকদের এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ক্যাম্পাসে কোনো অনিয়ম বা হেনস্তা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা রক্ষী, প্রোফেসর বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করুন এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নিন। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে।



