বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইজিপি বাহারুল আলমের নির্দেশে ৩২ হাজার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১,৩৩,০০০ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৪৭,০০০ সদস্যের প্রশিক্ষণ ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সকল ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করবে, আর ঝুঁকিপূর্ণ ৮,০০০ এবং মধ্যম ঝুঁকির ১৬,০০০ ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে। এই ব্যবস্থা ভোটার ও প্রার্থী উভয়ের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং নির্বাচনকালীন কোনো অনিয়মের রেকর্ড নিশ্চিত করতে লক্ষ্য রাখে।
রংপুরে অনুষ্ঠিত বিশেষ কল্যাণ সভায় রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ অডিটরিয়ামে আইজিপি বাহারুল আলম বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের পূর্ণ সমর্থন প্রয়োজন।
আইজিপি বলেন, “নির্বাচনের সময় আইন প্রয়োগে কোনো পক্ষপাত না রেখে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। যদি কোনো দল বা নেতা গ্রেফতার নিয়ে ভয় পায়, তবে পুলিশ সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমরা কোনো ভুল করি, তবে তা দ্রুত সনাক্ত করে সংশোধন করা হবে। আইনগত কাজের সময় ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে জনগণকে সচেতন করা জরুরি।”
নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা থাকবে। আইজিপি জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংস্থা নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, “পুলিশের সঙ্গে ছয় লাখ আনসার থাকবে, যা নির্বাচনের সময় শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিগত পনেরো বছরে পুলিশকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করতে দেখা গিয়েছে, যা বিভিন্ন বিরোধ ও আন্দোলনের সময় সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আইজিপি স্বীকার করেন, “আমরা অতীতে গণবিরোধী পদক্ষেপে জড়িয়ে পড়েছি, যার ফলে অনেক ক্ষতি হয়েছে। লোভী ও দলকানা কিছু সদস্যের কারণে আমাদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তিনি বলছেন, “গত এক বছর ধরে আমরা স্বমহিমা পুনর্স্থাপন, মনোবল বাড়ানো এবং সদস্যদের কাজের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।”
আইজিপি এছাড়াও দেশের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতি বছর গড়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ পর্যন্ত মানুষ হত্যা হয়। “আমাদের লক্ষ্য হল, নির্বাচনের সময় এমন কোনো প্রাণহানি না ঘটতে পারে,” তিনি বলেন। এই লক্ষ্যে বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভি ব্যবহারের মাধ্যমে রেকর্ডিং নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো অনিয়মের প্রমাণ সহজে পাওয়া যায়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজের গোষ্ঠীকে আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, “নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তবে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি, পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা লক্ষ্য। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করবে।



