ঢাকা স্ট্রিমের প্রধান সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ ১০ জানুয়ারি শনিবার, রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে, নতুন ধারার ছোট ও মাঝারি গণমাধ্যমের টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্তরের সমর্থন অপরিহার্য।
গত দেড় দশকে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের বিকাশের পাশাপাশি, সাম্প্রতিক চার-পাঁচ বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে একটি নতুন ধারা উদ্ভূত হয়েছে। এই নতুন মিডিয়া প্রথমে মূলধারার সঙ্গে সমান্তরালে কাজ করলেও, এখন প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ে এবং তথ্যের সরবরাহে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সামাজিক প্ল্যাটফর্মের বিস্তার তথ্যের দ্রুত প্রবাহ নিশ্চিত করলেও, একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তারও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইফতেখার মাহমুদ বলেন, এই প্রবণতা মূলধারার মিডিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যেখানে সামাজিক মিডিয়ার প্রচারকারীরা কখনো কখনো মূলধারার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি দেশে প্রথাগত সংবাদপত্র প্রথা ও ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ বাড়ছে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ঘটিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের উদাহরণে তিনি উল্লেখ করেন, এসব ঘটনা সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক ক্যাম্পেইনের ফল।
হেইট ক্যাম্পেইন থেকে সৃষ্ট ক্ষতি কমাতে সরকারী সংস্থাগুলোর অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, স্বচ্ছ তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভুয়া খবরের প্রভাব কমিয়ে মূলধারার মিডিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব।
তবে, বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর মিডিয়ার জন্য এখনো যথাযথ কাঠামো গড়ে তোলা বাকি। বিজ্ঞাপন সংগ্রহ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতার অভাব স্পষ্ট। এই ঘাটতি নতুন মিডিয়ার টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
ইফতেখার মাহমুদ উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে মিডিয়া সমর্থনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের সমন্বিত নীতি গ্রহণ করলে নতুন ধারার মিডিয়া স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হতে পারবে।
বিএনপি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি ধারণা করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর দলটি রাষ্ট্র পরিচালনায় ফিরে আসলে, নতুন মিডিয়ার সঙ্গে মূলধারার সংযোগ বজায় রাখতে এবং পেশাদারিত্ব রক্ষায় দলটির নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খালেদা সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি নতুন মিডিয়ার জন্য রাজনৈতিক সমর্থনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
মাহমুদের মতে, নতুন ধারার মিডিয়া যদি সরকারী নীতি, আর্থিক সহায়তা এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রবাহের সমন্বয় পায়, তবে তারা মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পেশাদার মান বজায় রাখতে পারবে। এ ধরনের সমন্বয় দেশের তথ্য পরিবেশকে শক্তিশালী করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেবে।
সামাজিক মিডিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে, মিডিয়া সংস্থাগুলোর জন্য একটি স্থিতিশীল ইকোসিস্টেম গঠনই একমাত্র সমাধান।



