বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরানোর অনুরোধের ওপর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আজ পিটিআইকে জানায়, এই বিষয়টি তাদের কাজের সীমার বাইরে এবং শেষ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নেবে।
বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবাজিত সাইকিয়া বলেন, “মিটিংটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স এবং অন্যান্য ক্রিকেট বিষয় নিয়ে ছিল; বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসি’র হাতে”। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, আইসিসি ছাড়া অন্য কোনো সংস্থা টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণের শর্তাবলী নির্ধারণ করতে পারে না।
সাইকিয়া এই মন্তব্য করেন একটি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সেন্টার অফ এক্সিলেন্স সম্পর্কিত মিটিংয়ের পর। মিটিংটি মূলত প্রশিক্ষণ সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যেখানে টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণের প্রশ্নটি আলোচনার মূল বিষয় ছিল না।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়, যাতে টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে সরানো হয়। এই অনুরোধের পেছনে মূল কারণ ছিল, আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে দ্রুতগতিতে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া, যা বিসিসিআইয়ের নির্দেশে করা হয়েছিল।
মুস্তাফিজুরের আইপিএল থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশে ব্যাপক নিন্দার স্রোত তৈরি করে। দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ে, ফলে অস্থায়ী সরকার আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে, বিসিবি নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উদ্বেগের ভিত্তিতে বিশ্বকাপের জন্য দল পাঠাতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিসিবি উল্লেখ করে, ভারতীয় মাটিতে দলকে পাঠালে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে এবং খেলোয়াড়দের মানসিক শান্তি ব্যাহত হতে পারে। এই উদ্বেগের ভিত্তিতে তারা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
বিশ্বকাপটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে। দুই দেশই টুর্নামেন্টের মূল হোস্ট হিসেবে কাজ করবে, যেখানে মোট ২০টি দল অংশগ্রহণের কথা। বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখন আইসিসি’র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
বিসিবি আইসিসি-কে একটি বিশদ চিঠি পাঠায়, যেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট উদ্বেগগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ আছে, ভারতীয় ভ্রমণ, বাসস্থান, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং ম্যাচের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথতা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
চিঠি পাঠানোর পর থেকে বিসিবি আইসিসি’র উত্তর প্রত্যাশা করছে। আইসিসি যদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নেয়, তবে ম্যাচের স্থানান্তর বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যথায়, বাংলাদেশকে মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হতে পারে।
আইসিসি’র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদি সিদ্ধান্তে ম্যাচের স্থানান্তর অনুমোদিত হয়, তবে শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশকে বিকল্প হোস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
বিসিসিআই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা আইসিসি’র সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে এবং কোনো অতিরিক্ত মন্তব্যে প্রবেশ করবে না। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, ভারতীয় ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসন কাঠামো ও দেশীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে একটি জটিল সমন্বয় তৈরি করেছে, যা টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত।



