কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৭ টার দিকে এক দল অপরিচিত ব্যক্তি এক বিএনপি কর্মীর ওপর ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। আক্রমণটি নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই বিল এলাকায় ঘটেছে এবং শিকারকে গুরুতর আঘাতের শিকার করে। শিকারের নাম মামুন হোসেন, বয়স ৩৭, এবং তিনি ওহিদুজ্জামানের পুত্র, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে গ্রাম বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
মামুন হোসেন কুমারখালীতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় বিএনপি শাখার সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তার পরিবার জানায়, রাতের খাবার শেষে তিনি বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তখনই একদল ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে আসে। আক্রমণকারীরা ধারালো অস্ত্র ও এলোপাতাড়ি (এক ধরনের তীক্ষ্ণ ধাতব বস্তু) নিয়ে শিকারের দিকে আঘাত করে, ফলে তার দেহে একাধিক গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
শিকারের বোন সুমি খাতুন ফোনে জানান, আক্রমণকারীরা শিকারের দিকে দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে একাধিকবার আঘাত করে, ফলে শিকারের বুকে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে চিরস্থায়ী ক্ষত চিহ্ন দেখা যায়। আহত মামুনের শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনা করে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ভর্তি করা হয়। রোগীকে জরুরি শল্যচিকিৎসা করা হয় এবং বর্তমানে তিনি রিকভারি রুমে পর্যবেক্ষণাধীন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, শিকারের বুকে গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র রক্তক্ষরণ ঘটেছে। তবে শল্যচিকিৎসার পর শিকারের অবস্থা স্থিতিশীল এবং বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত। চিকিৎসা দল শিকারের শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তচাপ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট প্রদান করছে।
কুমারখালী থানা থেকে ওয়ানডিউটি অফিসার (ওসি) জামাল উদ্দিনের মতে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে আক্রমণটি পূর্বের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের ফল হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে কোনো অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়ে গেছে। শিকারের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকায়, তদন্তের দায়িত্ব স্থানীয় পুলিশকে অর্পণ করা হয়েছে।
পুলিশের জানামতে, শিকারের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত দল আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণে ফোরেন্সিক বিশ্লেষণ, সাক্ষী বিবৃতি এবং এলাকার সিসিটিভি রেকর্ডের সাহায্য নেবে। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর কুমারখালী এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শিকারের পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে শিকারের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য চিকিৎসা ও মনোচিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।



