খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়নকালে পাহাড় কেটে মাটি ভরাটের অভিযোগ নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছয়জনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। কমিটি শনিবার, ১০ জানুয়ারি, সরেজমিনে পৌঁছে现场 পরিদর্শন করে তদন্তের সূচনা করে।
পরিদর্শনের প্রথম ধাপে কমিটি সদস্যরা ভরাট কাজের জন্য ব্যবহৃত মাটির নমুনা সংগ্রহ করে, সেগুলো সংরক্ষণ করে পরবর্তী বিশ্লেষণের জন্য পাঠায়। একই সঙ্গে চলমান নির্মাণকাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করে, কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম সনাক্ত করার চেষ্টা করে।
তদন্তের পটভূমি জানাতে, ৭ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিক ‘ভারতের জন্য বন্দর নির্মাণে পাহাড় কেটে জমি ভরাট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনকে ধরা দিয়ে, ৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাস্তবায়ন) মো. ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ফলাফল জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে রসনা শারমিন মিথিও, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম, বাংলাদেশ জাহাজবন্দর (বিজিবি) প্রতিনিধি এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মনি কো লিমিটেডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি তদন্তের স্বচ্ছতা ও বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ছিল।
কমিটি গঠনের আগে, শুক্রবার একই অভিযোগের ওপর মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দলও এলাকাটি পরিদর্শন করে। তবে সেই পরিদর্শনের পরেও কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, এবং কমিটি শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য শেয়ার করেনি।
কমিটির কাজের মূল লক্ষ্য হল পাহাড় কাটার প্রক্রিয়া, মাটি ভরাটের পদ্ধতি এবং নির্মাণের গুণগত মানের যথার্থতা যাচাই করা। সংগ্রহ করা মাটির নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে, যাতে পরিবেশগত প্রভাব এবং নির্মাণের নিরাপত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা তিন কর্মদিবস, যা ১৩ জানুয়ারি শেষ হবে। মন্ত্রণালয় এই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে প্রকল্পের অনুমোদন পুনর্বিবেচনা, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা অতিরিক্ত তদারকি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে পরিবেশগত উদ্বেগ এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার সংরক্ষণের প্রশ্নও তীব্রভাবে উত্থাপিত হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে সরকারী অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সংশোধনী আনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করবে, আর যদি না হয়, তবে প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
সর্বশেষে, মন্ত্রণালয় কমিটির কাজের অগ্রগতি এবং ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা যায়।



