বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.) মাজারে গিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন। এই পদক্ষেপটি দলের মিডিয়া সেল শনিবার গণমাধ্যমকে জানায়।
শাহজালাল মাজারে প্রচারণা সূচনা করার আগে, তারেক রহমান ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি নির্বাচনের নিকটবর্তীতা উল্লেখ করে, দলের সদস্য হিসেবে ২২ জানুয়ারি থেকে জনগণের সামনে বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
সেই অনুষ্ঠানে তিনি প্রচারণার নির্দিষ্ট সূচি বা কৌশল সম্পর্কে বিশদে কিছু বলেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, দলটি ভোটের আগে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের কাজ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত, যার পরপরই ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। তাই শাহজালাল মাজারে তারেক রহমানের উপস্থিতি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
শাহজালাল ও শাহপরান মাজারে জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করার পর, তিনি সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকা ফিরে আসবেন। পথে তিনি বিভিন্ন শহর ও গ্রামে পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন, যাতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সম্ভব হয়।
সিলেট সফরের পর, তারেক রহমানের পরিকল্পনায় মৌলভীবাজারে একটি জনসভায় অংশগ্রহণ এবং শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনী র্যালিতে বক্তব্য রাখা অন্তর্ভুক্ত। এই দুইটি ইভেন্টের মাধ্যমে তিনি উত্তরবঙ্গের ভোটারদের কাছে দলের নীতি ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে চান।
বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবে শাহীজালাল মাজারে জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে আসছে। পূর্বে বহুবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করে দলটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা কাজে লাগিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে।
গত শুক্রবার রাতে, দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সময়ে, তারেক রহমানকে দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে গ্রহণ করতে বলা হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিষয়ে জানান যে, উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে। তিনি সফরের পুনরায় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শাহীজালাল মাজারে প্রচারণা সূচনা করা দলটির জন্য ধর্মীয় স্থানকে রাজনৈতিক মঞ্চে রূপান্তর করার একটি কৌশল হতে পারে, যা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।
এই প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, নির্বাচনী রেজিমের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্পেইন কীভাবে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ গড়ে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফলকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



