FA Cup তৃতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার ম্যাকলেসফিল্ডের ঘর, মস রোজে, ক্রিস্টাল প্যালেসের মুখোমুখি হয়। হোল্ডার দলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ম্যাকলেসফিল্ড এফএ Cup‑এর ইতিহাসে এক অনন্য জায়গা তৈরি করে, কারণ ১৯০৯ সালের পর থেকে প্রথমবার কোনো নন‑লিগ দল হোল্ডারকে হারিয়েছে।
দুই দলের মধ্যে ইংরেজি ফুটবলের পিরামিডে ১১৭টি স্তরের পার্থক্য রয়েছে, তবু ম্যাকলেসফিল্ডের খেলোয়াড়রা মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করে, আর প্যালেসের পারফরম্যান্স গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নশিপের ছাপ দেখাতে ব্যর্থ হয়।
প্রথমার্ধে ক্যাপ্টেন পল ডসন একটি শক্তিশালী হেডার দিয়ে স্কোরের প্রথম গোল করেন, যা ম্যাচের প্রবাহকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়। ডসনের গোলের পর প্যালেসের রক্ষাকারী দল, যার মধ্যে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ও ম্যানচেস্টার সিটি লক্ষ্যবস্তু মার্ক গুইহি ছিলেন, গোলের পরিণতি মোকাবেলায় অক্ষম দেখায়।
দ্বিতীয়ার্ধে, আইজ্যাক বকলি‑রিকেটস ৬০তম মিনিটে একটি স্ক্র্যাপি গোল করে স্কোরকে ২-০ করে তোলেন। বকলি‑রিকেটসের গোলের সময় সূর্যের নিচে উঁচুতে পাঠানো বলগুলো প্যালেসের ডিফেন্সকে বিভ্রান্ত করে, ফলে তাদের রক্ষণাত্মক গঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
ম্যাকলেসফিল্ডের রক্ষণাত্মক দল, বিশেষ করে গুইহি সমন্বিত প্যালেসের ব্যাকলাইন, সূর্যের তীব্র আলোতে বলের উচ্চতা নির্ধারণে সমস্যায় পড়ে, ফলে শটগুলো সহজে রক্ষার সুযোগ পায়। প্যালেসের খেলোয়াড়রা ঘাটতি পূরণে প্রচেষ্টা করলেও, ম্যাকলেসফিল্ডের দ্রুত আক্রমণাত্মক চালনা তাদেরকে অতিক্রম করতে পারে না।
এটি ম্যাকলেসফিল্ডের ২০২০ সালে পুনরুজ্জীবনের পর প্রথমবারের মতো তৃতীয় রাউন্ডে প্রবেশ, যদিও পূর্বের ম্যাকলেসফিল্ড টাউন দলটি বলিং ও কার্ডিফের মতো উচ্চমানের ক্লাবের বিরুদ্ধে চমকপ্রদ জয় অর্জন করেছিল। ঐতিহাসিকভাবে এই ক্লাবের কাপে উঁচু স্তরের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার ঐতিহ্য রয়েছে, যা এই জয়ের পেছনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে।
ম্যাচের পরিসরে, রোনি, যিনি ২০০৯ সালে ম্যাকলেসফিল্ডে এভারটনের বিরুদ্ধে তৃতীয় রাউন্ডে সাবস্টিটিউট হিসেবে প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, সহকারী কোচ ফ্রান্সিস জেফার্সকে আলিঙ্গন করেন। আরেকজন প্রাক্তন এভারটনীয়, রোনির ভাই ওয়েন রোনি, গ্যান্ট্রিতে উপস্থিত থেকে হাসি দিয়ে দলকে সমর্থন করেন।
ম্যাচের টিকিট বিক্রির আয় থেকে প্যালেসের অংশীদারিত্বের অর্থ ম্যাকলেসফিল্ডের তহবিলে দান করা হয়, যা ক্লাবের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়তা করে। এছাড়া, গত মাসে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ইথান ম্যাকলিডের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রধান স্ট্যান্ডে তার ছবি সহ একটি ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা হয়, এবং প্যালেস দলটি ফুলের তোড়া ও সমবেদনা বার্তা পাঠিয়ে শোক প্রকাশ করে।
প্রথম হুইসেল থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাকলেসফিল্ডের খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে, এবং এফএ Cup‑এর পরবর্তী রাউন্ডে তারা কোন দলকে মুখোমুখি হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে এই জয় তাদেরকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।



