ইরানের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শাহী বংশের শেষ উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভি শুক্রবার ইরানে অনুষ্ঠিত বিশাল বিক্ষোভের পর নতুন কৌশল ঘোষণা করে, যেখানে তিনি রাস্তায় মাত্র না গিয়ে শহরের মূল এলাকাগুলো দখল করে ধরে রাখার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে তীব্র করতে এই পদ্ধতিকে লক্ষ্যভিত্তিক বিক্ষোভের মূলধারা হিসেবে উল্লেখ করেন।
পাহলভি বিক্ষোভের বিশাল জনসমাগমের প্রশংসা করে বলেন, এখন কেবল রাস্তায় না গিয়ে শহরের কেন্দ্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং ধরে রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিজেও শীঘ্রই ইরানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সরাসরি অংশ নিতে ইচ্ছুক।
রেজা পাহলভির বাবা, মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। শাহী শাসনের শেষ প্রতিনিধি হিসেবে তার মৃত্যুর পর থেকে রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মন্তব্য করে আসছেন।
ইরানীয় মানবাধিকার কর্মীরা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ সংযোগ বন্ধ হলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক কার্যক্রমের প্রকৃত মাত্রা গোপন থাকতে পারে। এই উদ্বেগের পটভূমিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত দমন অভিযানের তথ্য রয়েছে।
নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, চলমান দমন অভিযানে অন্তত ৫১ জন নাগরিক নিহত হয়েছে। সংস্থা উল্লেখ করেছে, এই সংখ্যা সরকারী সূত্রে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ তথ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি একই দিনে সতর্কতা প্রকাশ করে, নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এবাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই মন্তব্য করেন।
অধিকন্তু ইরানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যও বিক্ষোভে নিহত হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সরকারী সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি, ফলে বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট নয়।
দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে সমালোচনা করে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পথ পরিবর্তন হবে না বলে জোর দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করে, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর আন্তর্জাতিক চাপকে প্রত্যাখ্যান করেন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, রেজা পাহলভির নতুন কৌশল যদি বাস্তবায়িত হয় তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মাত্রা বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে এই ঘটনাগুলি প্রভাব ফেলতে পারে।



