22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপ্রাথমিক শিক্ষায় ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা কার্যকর

প্রাথমিক শিক্ষায় ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা কার্যকর

প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি মাপার পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক লিখিত পরীক্ষার সমন্বয়কে নতুন মানদণ্ড হিসেবে গৃহীত করার পরিকল্পনা করেছে। এই সংস্কার বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নির্দেশিকাটি সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে মূল্যায়নের কাঠামো, উপস্থিতি শর্ত এবং পুনরায় পরীক্ষার প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) রেবেকা সুলতানা আগামী ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সভায় এনসিটিবি প্রস্তুত করা খসড়া মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।

সভার অংশগ্রহণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সভার মূল উদ্দেশ্য হল নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি বর্তমান শিক্ষাবর্ষে প্রয়োগ করা হবে কিনা তা নির্ধারণ করা।

নতুন নির্দেশিকায় প্রচলিত লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিষয়ের জন্য বাধ্যতামূলক মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে ছোট বয়সের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান প্রকাশের বিভিন্ন দিককে সমানভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীর প্রতি প্রান্তিকে মোট ৮৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। উপস্থিতি শর্ত পূরণ না হলে সামষ্টিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি সীমিত হতে পারে।

যদি কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে কোনো সামষ্টিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তবে বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীর অনুরোধে দশ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন প্রশ্নপত্রে বিকল্প পরীক্ষা পরিচালনা করতে হবে। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীর শিখন ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহায়ক হবে।

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমস্ত মূল্যায়ন তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে শিখন অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। এই প্রতিবেদনগুলো শিক্ষক, অভিভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে আসবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাস্তবায়ন কাজের দায়িত্ব মন্ত্রণালয় ও বিদ্যালয়গুলোকে অর্পণ করা হয়েছে।

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা চালু করার দাবি বহু বছর ধরে অভিভাবকদের কাছ থেকে শোনা যায়। নতুন নীতিতে এই দাবিকে পূরণ করে শিক্ষার্থীর জ্ঞানমূলক মূল্যায়নকে আরও স্পষ্ট করা হবে।

পূর্বে প্রাথমিক স্তরে প্রধানত শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম এবং গঠনমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হতো। এখন ধারাবাহিক মূল্যায়ন, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা, এবং সামষ্টিক লিখিত পরীক্ষার সমন্বয় শিক্ষার্থীর সামগ্রিক দক্ষতা পরিমাপে সহায়তা করবে।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা যদি এই পরিবর্তনকে সফল করতে চান, তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বাড়িতে মৌখিক ও ব্যবহারিক অনুশীলনের সময়সূচি তৈরি করা এবং মূল্যায়ন ফলাফলের ভিত্তিতে সময়মতো সমর্থন প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তান কীভাবে এই নতুন পদ্ধতিতে মানিয়ে নিচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments