শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সামাজিক কল্যাণ বিভাগের খুলনা শাখার বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের প্রধান বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ড. ইউসুফ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে নিয়মিত খেলাধুলা অপরিহার্য, এবং যদি খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয় তবে সমাজকে মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, ক্রীড়া কেবল শারীরিক ফিটনেসই নয়, আত্মবিশ্বাস, দলবদ্ধতা এবং স্বনিয়ন্ত্রণের চর্চা করিয়ে দেয়, যা মাদকদ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ কমাতে সহায়ক।
বক্তা আরও জানান, সরকার মোট ৯৬টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেছে, যার মধ্যে ২৯টি সরাসরি সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে প্রায় এক কোটি তেইশ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে উপকার পাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংখ্যা দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা জাল হিসেবে কাজ করছে।
ড. ইউসুফের মতে, ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ক্রীড়া সুবিধা বাড়ানো হবে, যাতে তারা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং প্রতিযোগিতার সুযোগ পায়। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও নগরী দু’প্রান্তের শিশুদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ উন্নত করতে অতিরিক্ত বাজেট ও সম্পদ বরাদ্দ করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হিসেবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাসিন্দাদের অংশগ্রহণকে তুলে ধরা হয়েছে। এই ইভেন্টের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ক্রীড়া দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, যিনি উদ্বোধনী সমাবেশের শীর্ষে বসে সকলকে স্বাগত জানান। তার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সমন্বয়কে সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ক্রীড়া উদ্যোগের মাধ্যমে যুবসমাজের ক্ষমতায়নের দিকে সরকারের দৃঢ় ইচ্ছা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধুমাত্র শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও জাতীয় গর্বের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম এবং স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি বিভিন্ন সরকারি বিভাগের সমন্বিত কাজের গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা ক্রীড়া ও সামাজিক কল্যাণের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
সমগ্র অনুষ্ঠানে একাধিকবার জোর দেওয়া হয়েছে যে, ক্রীড়া ও সামাজিক কল্যাণের সমন্বয়ই তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার মূল চাবিকাঠি। কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে, যা মাদকদ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
প্রতিযোগিতার সময়সূচিতে বিভিন্ন ক্রীড়া শাখা—ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল ইত্যাদি—এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দিনের এই ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা তাদের উৎসাহ বাড়াবে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ড. ইউসুফ সকলকে আহ্বান জানান যে, পরিবার, বিদ্যালয় ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলাই মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সমাজের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তর ক্রীড়া অবকাঠামো শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য রাখছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও মাদকমুক্ত জীবনযাত্রা গড়ে ওঠে।



