বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শনিবার ঢাকার বনানী হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সভা আয়োজন করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে হিংসা‑বিহীন পথে চালিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতবৈচিত্র্য স্বাভাবিক, তবে তা জাতি বা সমাজকে বিভক্ত করার স্তরে পৌঁছানো উচিত নয়।
বৈঠকের সূচনায় তারেক রহমান বলেন, তিনি ১৯৮১ সালের একটি দুঃখজনক ঘটনার স্মৃতি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রক্তাক্ত ঘটনার স্মৃতি এবং ২০২৫ সালের শেষের দিকে সম্ভাব্য কোনো সংকটের সম্ভাবনা একসাথে মাথায় রেখে দেশের বর্তমান অবস্থাকে পুনরাবৃত্তি করা দরকার নেই। এই তিনটি সময়ের তুলনা করে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পথের পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি ত্যাগ করে দেশের উন্নয়নের সঠিক পথে অগ্রসর হতে চায়। তার মতে, দেশের অভ্যন্তরে কৃষক, নারী ও যুবকদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি তৈরি করা জরুরি, বিশেষ করে প্রায় দেড় কোটি কৃষকের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন নারী শিক্ষার গুরুত্বের ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মা ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানকে স্মরণীয় হিসেবে তুলে ধরতে চান এবং ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের সময় শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক।
সমালোচনার বিষয়েও তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি বলেন, সমালোচনা প্রয়োজন, তবে তা শুধুমাত্র সমালোচনা নয়, বরং দেশের সমস্যার সমাধানে সহায়ক হওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, তিনি দেড় দশকের বেশি সময় নির্বাসিত অবস্থায় কাটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গমন করার সুযোগ পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে দেশের মানুষের উচ্চ প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তদুপরি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে তা জাতিগত বা ধর্মীয় বিভাজনের দিকে না নিয়ে চলা উচিত। ৫ আগস্টের ঘটনার পরিণতি দেখিয়ে তিনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
বৈঠকের শেষে তিনি নতুন প্রজন্মের আশার কথা উল্লেখ করে বলেন, সব প্রজন্মই একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সেই দিকনির্দেশনা অনুসারে কাজ করা।
আওয়ামী লীগ বা অন্যান্য বিরোধী দল থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ধরনের প্রকাশনা ভবিষ্যতে পার্টি-ভিত্তিক সংঘাত কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই বক্তব্যের পর, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে এবং তিনি দেশের উন্নয়নমূলক নীতি, বিশেষ করে কৃষি, নারী শিক্ষা ও রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে শেষ করেন।



