ক্যাবিনেট বিভাগ সরকারী সব অফিসকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে লোগো ব্যবহার এবং ব্যানার প্রদর্শনের জন্য জরুরি নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নির্দেশনাটি সকল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের নামের ওপর প্রেরিত চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে লোগো ব্যবহারের পদ্ধতি ও স্থান উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে ৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ক্যাবিনেট বিভাগে প্রেরিত একটি অনুরোধের প্রভাব রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অফিসের চিঠিতে সমজাতীয় লোগো ব্যবহারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছিল।
প্রাপ্ত লোগোটি সকল সরকারি পত্রের ডান উপরের কোণে স্থাপন করতে হবে, তা কাগজে হোক বা ইলেকট্রনিক ফরমে। লোগোর আকার ও রঙের মানদণ্ড চিঠিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যানার সম্পর্কেও একই রকম নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; প্রতিটি সরকারি ভবনের দৃশ্যমান স্থানে লোগোসহ ব্যানার টাঙাতে হবে। ব্যানারগুলোকে চোখে পড়ার মতো স্থানে রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের নির্দেশও আছে।
ক্যাবিনেট বিভাগ জোর দিয়ে বলেছে যে, নির্বাচনের পূর্বে ও চলাকালীন এই নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যতিক্রম অনুমোদিত হবে না এবং সকল স্তরে তদারকি করা হবে।
দলিল, নোটিশ, স্মারক এবং ইমেইলসহ সব ধরনের সরকারি যোগাযোগে লোগো যুক্ত করা হবে, যাতে একরূপতা বজায় থাকে। এই সমন্বয় ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের প্রতি সচেতনতা বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই নির্দেশনা দেশের বিস্তৃত নির্বাচন প্রস্তুতির অংশ, যার মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। একসাথে এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতে লক্ষ্য রাখে।
লোগো ব্যবহার ও ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারী সংস্থাগুলো নির্বাচনের গুরুত্বকে দৃশ্যমান করে তুলবে। একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিপক্ষের দলগুলোকে এই নির্দেশনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে এবং তারা রাষ্ট্র সম্পদ ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে নির্বাচন লজিস্টিক্সের সমন্বয় এবং ভোটারদের বিভ্রান্তি কমানোর একটি কৌশল হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। লোগোর একরূপতা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্যাবিনেট বিভাগ সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চিঠি গ্রহণের স্বীকারোক্তি দিতে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে অনুরোধ করেছে। তদনুযায়ী তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
নির্দেশনা অনুসরণ না করলে প্রশাসনিক শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ সরকারি প্রক্রিয়ার অধীনে পরিচালিত হবে। তাই সকল স্তরে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত।
এই নির্দেশনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্বাচনের পর সরকারী অফিসগুলো আবার স্বাভাবিক ব্র্যান্ডিং পদ্ধতিতে ফিরে যাবে।



