জাতীয় সিটিজেন পার্টি (NCP) সমাবেশের প্রধান নাহিদ ইসলাম আজ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সরকার কোনো এক রাজনৈতিক দলের জন্য বিশেষ প্রোটোকল প্রদান করলে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এমন সিগন্যালিং দেশের রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই মন্তব্যের পূর্বে নাহিদ ইসলাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে একটি পর্যবেক্ষণ দলকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য বৃহৎ ও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাতে প্রস্তুত।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনকে মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং প্রতিযোগিতামূলক রাখতে চায় এবং ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর সকল অংশগ্রহণকারী তা মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পর্যবেক্ষক দলটি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে এবং সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল নাহিদ ইসলামকে আশ্বাস দিয়েছে, তারা সব দলকে সমানভাবে বিবেচনা করবে এবং পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাত দেখাবে না। একই সঙ্গে তারা NCP-কে তাদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এখনো সকল দলই সমান সুযোগের নিশ্চয়তা পায়নি এবং বিশেষ করে সরকারী প্রোটোকল কোনো এক দলের জন্য প্রদান করা হলে তা অন্য দলের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে কোনো দলই সম্পূর্ণভাবে সমান মঞ্চে নেই।
বিশেষ সুবিধা ও সরকারী প্রোটোকল একতরফা প্রদান করা হলে তা একটি স্পষ্ট সংকেত দেয়, যা সমান প্রতিযোগিতার নীতি ভঙ্গ করে। নাহিদের মতে, এ ধরনের আচরণ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে বড় বাধা হতে পারে।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে নাহিদের আরেকটি উদ্বেগ প্রকাশ পায়। তিনি দাবি করেন, মূলধারার মিডিয়ায় NCP সম্পর্কে নেতিবাচক ও ভুল তথ্যের প্রচার বাড়ছে এবং কিছু মিডিয়া আউটলেট বিশেষভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করে কাজ করছে।
মিডিয়া ও প্রশাসনে সমান সুযোগের দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে যে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তা তাও জানানো হবে।
নাহিদের মতে, নির্বাচন কমিশনকে এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবহিত করা এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমতা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ দলও নাহিদের উদ্বেগকে স্বীকার করে, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা নিশ্চিত করেছে, পর্যবেক্ষণ মিশন চলাকালীন কোনো দলকে অগ্রাধিকার না দিয়ে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার বিশেষ প্রোটোকল প্রদান চালিয়ে যায়, তবে এটি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রশ্ন তুলতে পারে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
অবশেষে, নাহিদ ইসলাম সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে, নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে উভয় সময়ে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় সমাধান অনুসন্ধান করা হবে।



