মুন্সীগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে বৃহৎ পুনর্মিলনী আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শনিবার, ১০ জানুয়ারি, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলেছে। কলেজের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলন ঘটেছে।
দিনের সূচনা একটি র্যালি দিয়ে করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা কলেজের প্রবেশদ্বার থেকে একত্রিত হয়ে রঙিন পতাকা ও সঙ্গীতের সঙ্গে অগ্রসর হন। র্যালি শেষে সকাল ১১ টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই মুহূর্তটি সকলের জন্য সম্মানজনক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে মোট প্রায় চারশো শিক্ষার্থী—পুরাতন এবং নতুন—একত্রিত হন। বহু বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরে এসে তারা স্মৃতিচারণের মঞ্চে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের সঙ্গে পুনরায় বন্ধুত্বের সেতু গড়ে তোলেন। উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসের মিশ্রণই পুনর্মিলনীকে বিশেষ করে তুলেছে।
সকাল সাড়ে একটায় ইংরেজি বিভাগের প্রকাশিত ম্যাগাজিন ‘রেমিনিসেন্স’ উন্মোচন করা হয়। এই কাজটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুন নাহার মহোদয় কর্তৃক সম্পন্ন হয়। ম্যাগাজিনের প্রথম কপি হাতে নেয়া এবং প্রকাশনার মুহূর্তটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিভাগ ও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য মোট একুশজনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সম্মানসূচক শব্দে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা সমবেত সবার মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।
স্মৃতিচারণ সভা, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো পুনর্মিলনীকে আরও রঙিন করে তুলেছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গান, কবিতা ও নাটকের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন, আর বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে মিলে আনন্দময় পরিবেশ গড়ে তোলেন। এই সব কার্যক্রম ক্যাম্পাসকে একদিনের জন্য উৎসবমুখর করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, এ ধরনের পুনর্মিলনী প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে এবং ইংরেজি বিভাগের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও পরিচয় বজায় থাকে।
বিকালের সমাপনী পর্বে সকল অংশগ্রহণকারী একসাথে বিদায় জানিয়ে দিনটি শেষ হয়। পুনর্মিলনী শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: আপনার কলেজের পুরোনো নথি, ফটো ও স্মৃতিচিহ্নগুলো ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করুন; এভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতা সহজে ভাগ করা যাবে।



