গত সপ্তাহে দ্য স্টার বিজনেস পৃষ্ঠাগুলো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করেছে। ছয়টি পৃথক প্রতিবেদনে রপ্তানি চাপ, আর্থিক স্থিতিশীলতার উদ্বেগ, নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লেসট ডেভেলপড কান্ট্রি (LDC) থেকে মুক্তি পেতে এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকায় বেশিরভাগ ব্যবসা এখনো প্রস্তুত নয়। বাণিজ্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে যে, দায়িত্বমুক্ত বাজারে প্রবেশের সুবিধা হারিয়ে গেলে রপ্তানির ওপর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তারা উল্লেখ করেছে যে, বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি ধীর, উৎপাদন খরচ উচ্চ এবং অবকাঠামোর ঘাটতি রপ্তানি সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে দেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪৭.৭৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গ্লোবাল চাহিদার দুর্বলতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদানমূলক শুল্কের প্রভাব এই পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও গার্মেন্টস সেক্টরের রপ্তানি কমে গিয়েছে, তবে অ-গার্মেন্টস সেক্টরে কিছু সীমিত বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি পারফরম্যান্সে সাময়িক স্বস্তি প্রদান করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে, সমস্যায় পড়া নয়টি নন‑ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের (NBFI) জমাদারগণ ২০২৬ সালের রমজানের আগে তাদের টাকা ফেরত পেতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে মোট ১৫,৩৭০ কোটি টাকা জমা ধারণ করে। সরকার ছোট জমাদারদের জন্য প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা verbally অনুমোদন করেছে, যা সমাধান পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫ প্রস্তাবের ফলে অর্থনীতিবিদ ও মাইক্রোফাইন্যান্স ক্ষেত্রের কর্মীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নীতি নির্ধারকরা যুক্তি দেন যে, এই আইনটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে সেবা বিস্তারে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, সমালোচকরা সতর্ক করেন যে, মুনাফা চালিত ব্যাংকগুলো মাইক্রোক্রেডিটের সামাজিক মিশনকে ক্ষয় করতে পারে, যা নিম্নআয়ের ঋণগ্রহীতাদের সেবা প্রদানকে লক্ষ্য করে।
টেক্সটাইল স্পিনার ও গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের মধ্যে সুতো আমদানি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। স্পিনাররা অতিরিক্ত শুল্কের ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যেখানে গার্মেন্টস রপ্তানিকারকরা শুল্ক হ্রাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।
এই সব বিষয়ের সমন্বয়ে দেখা যায় যে, দেশের অর্থনীতির সামনে স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি হ্রাস, আর্থিক পুনর্গঠন এবং নীতি সংশোধনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে LDC গ্র্যাজুয়েশন সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় রপ্তানি বাজারের প্রবেশাধিকার রক্ষা এবং উৎপাদন খরচ কমাতে ত্বরিত নীতি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। নন‑ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা ফেরত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার হবে। মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক আইন নিয়ে চলমান বিতর্কে সামাজিক মিশন ও মুনাফার সমন্বয় নিশ্চিত করা উচিত, যাতে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর আর্থিক সেবা অব্যাহত থাকে। সুতো শুল্ক সংক্রান্ত মতবিরোধ সমাধান হলে টেক্সটাইল শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি উভয়ই উপকৃত হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই সপ্তাহের মূল আর্থিক ও বাণিজ্যিক ঘটনাগুলো দেশের নীতি নির্ধারক, শিল্প সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্ক সংকেত প্রদান করে। রপ্তানি হ্রাসের প্রবণতা, LDC গ্র্যাজুয়েশন প্রস্তুতির ঘাটতি এবং আর্থিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



