মংলা কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের সদস্যরা শুক্রবার রাতেই সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কালাবগি এলাকায় গোপন অভিযান চালায়। আহরণ নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ১২ মণ (প্রায় ১০ কেজি) কাঁকড়া জব্দ করে এবং পাঁচজন কাঁকড়া ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর কাঁকড়া ও আটক ব্যক্তিদের বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায়।
অভিযানটি কালাবগি এলাকার সংলগ্ন গাছের ছায়ায় গোপনভাবে চালানো হয়। কোস্টগার্ডের দল কাঁকড়া সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। জব্দকৃত কাঁকড়ার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ তেতালিশ হাজার টাকা হিসেবে অনুমান করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন কাঁকড়া ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশিত হয়েছে: তরুণ সরকার, মনজুর ঢালী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গাজী, মাসুম বিল্লাহ এবং মোহাম্মদ আজাদ সানা। এ সকল ব্যক্তি খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার কালাবগি এলাকার বাসিন্দা। তাদের ব্যবসা মূলত কাঁকড়া সংগ্রহ ও বিক্রয়, যা নিষেধাজ্ঞা সময়ে অবৈধ বলে গণ্য হয়।
কাঁকড়া আহরণ নিষেধাজ্ঞা জানুয়ারি এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে, কারণ এই সময়ে কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম চলে। এই সময়ে কোনো ব্যক্তিকে কাঁকড়া সংগ্রহের অনুমতি নেই, যাতে প্রজাতির পুনরুৎপাদন নিশ্চিত করা যায়। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের হুমকি বাড়ে।
মংলা কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুন্তাসীর ইবনে মহসিন উল্লেখ করেন, এই সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অধিক লাভের লক্ষ্যে অবৈধভাবে জেলেদেরকে সুন্দরবনে পাঠিয়ে কাঁকড়া আহরণ করিয়ে থাকে। তিনি জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে কালাবগি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাঁকড়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আটকপ্রাপ্ত কাঁকড়া ও ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, যেমন জব্দকৃত সামগ্রী ও গ্রেফতার রিপোর্ট, সরাসরি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন বিভাগ এই বিষয়টি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে যাবে, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
গ্রেফতারকৃত পাঁচজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তাদের বিরুদ্ধে কাঁকড়া আহরণ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে কী রকম রায় হবে, তা পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নিয়মিতভাবে আহরণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা এখনও মাঝে মাঝে ঘটে, যা স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। কোস্টগার্ডের এই ধরণের অভিযান পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবৈধ কাঁকড়া আহরণ বন্ধ করতে এবং প্রজনন মৌসুমে প্রজাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে কাঁকড়া সংরক্ষণে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমিতি কোস্টগার্ডের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যে কোনো অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে, তারা কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়িয়ে প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকে।



