দক্ষিণ భారతের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এস. রাজমৌলি এবং তেলেগু তারকামহেশ বাবুর যৌথ প্রকল্প ‘ভারাণসী’ ১৫ এপ্রিল ২০২৭ তারিখে থিয়েটারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের মুক্তির দিনটি রাম নবমি, অর্থাৎ শ্রী রামচন্দ্রের জন্মদিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যা প্রযোজকদের মতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
‘ভারাণসী’তে মহেশ বাবু রামচন্দ্রের অবতার হিসেবে অভিনয় করবেন বলে জানা গেছে, ফলে রামচন্দ্রের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে আধুনিক কল্পনাশক্তির সঙ্গে মিশিয়ে একটি মহাকাব্যিক চিত্রায়ণ উপস্থাপন করা হবে। এই চরিত্রের জন্য বাবু বিশেষ প্রশিক্ষণ ও শারীরিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক গুণগত মানকে উঁচুতে তুলে ধরবে।
রিলিজের তারিখ রাম নবমিতে নির্ধারণের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল দর্শকদের ধর্মীয় উত্সবের সঙ্গে সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করা, যাতে উভয়ই একসাথে উদযাপন করা যায়। এই ধরনের সময়সূচি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে বিরল, এবং যদি নিশ্চিত হয়, তবে ‘ভারাণসী’কে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতীকী মুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
প্রযোজক দল এছাড়াও চলচ্চিত্রের কিছু দৃশ্য আয়োধ্যার রাম মন্দিরের আশেপাশে শ্যুট করার পরিকল্পনা করছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও প্রোটোকল অনুসরণ করা আবশ্যক, যা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অনুমতি প্রাপ্তির পরই শ্যুটিং শিডিউল চূড়ান্ত করা হবে।
‘ভারাণসী’ প্রকল্পের পূর্ববর্তী অগ্রগতির তথ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক আপডেটগুলোও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে চলচ্চিত্রের প্রি-প্রোডাকশন ও কাস্টিং সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে পোস্ট-প্রোডাকশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের কাজ চলছে। এই সময়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, ভিজ্যুয়াল ডিজাইন ও মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি নির্ধারিত হয়েছে।
রাম নবমি ও আয়োধ্যার পবিত্রতা চলচ্চিত্রের থিমের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, ফলে দর্শকরা ধর্মীয় উত্সবের সময়ে একটি বৃহৎ স্ক্রিনে রামচন্দ্রের কাহিনী উপভোগ করতে পারবেন। এই সংযোগটি কেবল বাণিজ্যিক দিক থেকে নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযোজকরা এখন পর্যন্ত মুক্তির তারিখ নিশ্চিত করার জন্য চূড়ান্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রিলিজের পূর্বে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। রাম নবমি উপলক্ষে ‘ভারাণসী’কে বড় স্ক্রিনে উপস্থাপন করা হলে, এটি ভারতীয় সিনেমার একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



