কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মণ্ডলভোগ গ্রামে শনিবার সকাল দশটায় দশ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। ৬৫ বছর বয়সী বজলুর রহমানের মৃত্যু ঘটেছে, যার মৃত্যুর কারণ তার ২০ বছর বয়সী ছেলে যোবায়েরের হাতে ছুরিকাঘাত।
ঘটনার সূত্র অনুসারে, বজলুর রহমান তার ছেলের কাছ থেকে শ্যাম মেশিনের তেল কেনার জন্য টাকা চেয়েছিলেন। তেল কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না পেলে দুজনের মধ্যে তীব্র কথোপকথন শুরু হয়। কথোপকথনের সময় বজলুর রহমান তার ছেলের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করে।
বিবাদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বজলুর রহমান তার ছেলেকে শারীরিকভাবে ধাক্কা দেন। এর পর যোবায়ের ধারালো কোনো বস্তু ব্যবহার করে বজলুরের বুকে আঘাত করেন। আঘাতের ফলে বজলুর রহমান মাটিতে পতিত হন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে বজলুর রহমানের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের মেডিক্যাল অটপসির জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় কটিয়াদী মডেল থানার ওয়্যার্ড অফিসার মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালু রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ লাশের অবস্থা, আঘাতের ধরন এবং ঘটনার সময়ের ভিডিও রেকর্ডিংসহ প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
পুলিশের মতে, যোবায়েরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে এবং তাকে গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া, বজলুর রহমানের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ঘটনাটির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পারিবারিক সংঘাত রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, কিশোরগঞ্জের অন্যান্য গ্রামেও পারিবারিক বিরোধের ফলে হিংসা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক সংস্থাগুলি পরিবারিক সমস্যার সমাধানে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা করছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে, তদন্ত চলমান এবং আদালতে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।



