চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (Cucsu) আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি একটি শিক্ষককে আটক করে প্রোডেক্টরের অফিসে হস্তান্তর করেছে। আটক করা শিক্ষক রোমান শুভ, যিনি আইন ফ্যাকাল্টির সদস্য এবং ২০২৫‑২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘B’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রোমান শুভ গ্যালারি‑১-এ ভর্তি পরীক্ষার তদারকি করছিলেন যখন ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তার উপস্থিতি সম্পর্কে জানেন। ইউনিয়নের সদস্যরা ডিনের অফিসে বিষয়টি জানাতে গিয়ে শিক্ষকটি তাদের চলার তথ্য পেয়ে হলে হেলে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
শিক্ষককে তাড়া করার পর Cuccu প্রতিনিধিরা তাকে ধরা পড়ে এবং সরাসরি প্রোডেক্টরের অফিসে নিয়ে যায়। আটক করার সময় কোনো শারীরিক সংঘর্ষের রিপোর্ট নেই এবং শিক্ষককে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।
রোমান শুভের বিরুদ্ধে পূর্বে ছাত্র আন্দোলনের সময় তার অবস্থান নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগগুলোতে বলা হয়, জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রদের বিরোধী মত প্রকাশ করে ছিলেন। এই অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার কাজ এখনো চলমান।
Cucsu-র এক্সিকিউটিভ সদস্য সোহানুর রহমান জানান, “একজন শিক্ষক যাকে আমরা ফ্যাসিবাদীর সঙ্গে যুক্ত বলে জানি, তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব নৈতিকভাবে পালন করছেন না। আমরা ডিনের অফিসে বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি হঠাৎ করে হলে হেলে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাই আমরা তাকে প্রোডেক্টরের অফিসে নিয়ে গেছি।”
প্রোডেক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শাহিদ সরওয়ার্দি উল্লেখ করেন, “তিনি আলাপের সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে রোমান শুভ আলাপের সময় প্রো-আওয়ামী লীগ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্রদের বিরোধী অবস্থান নেন। আজ তার উপস্থিতি লক্ষ্য করে ছাত্ররা তাকে আটক করে প্রোডেক্টরের অফিসে নিয়ে গেছেন।”
প্রোডেক্টর আরও যোগ করেন, “এ মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা যথাযথভাবে জানানো হবে।”
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে তা এখনো অনিশ্চিত। ছাত্র ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত, আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হল তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার পরিবেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা জরুরি।
পাঠকগণ, আপনারা কি মনে করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ধরনের ঘটনা ঘটলে কী ধরনের নীতি বা প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা উচিত যাতে শিক্ষার স্বায়ত্তশাসন ও ছাত্রদের অধিকার উভয়ই সুরক্ষিত থাকে? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



