মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রাক্তন ফুটবলার মেসুত ওজিল ৯ জানুয়ারি ইস্তানবুলের একটি হোটেলে একত্রিত হন। দুজনেই তুরস্ক সফরের শেষ দিনে সাক্ষাৎ করেন এবং গাজা পরিস্থিতি, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ ও অন্যান্য সমসাময়িক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
বৈঠকটি ইস্তানবুলের একটি হোটেলের গোপনীয় কক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের পুত্র নাজমেদ্দিন বিলাল এরদোয়ানও উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতি উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ককে দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়।
আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী মিডফিল্ডার ওজিলের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা তার জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ ছিল। তিনি নিজের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্তিত্বের কথা উল্লেখ করে, আরসেনালের প্রাক্তন তারকা ওজিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
ওজিলের তুরস্কের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কে জানিয়ে তিনি বলেন, ওজিল বর্তমানে একে পার্টির সঙ্গে যুক্ত এবং দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে উভয় পক্ষই ক্রীড়া ও রাজনীতির সংযোগের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা চালিয়ে যায়।
আনোয়ার ওজিলের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওজিলের ধারাবাহিক দানশীল কাজগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি ওজিলের মানবিক প্রকল্পের ব্যাপক প্রভাবের কথা তুলে ধরে, বিশেষ করে গাজা অঞ্চলের জরুরি সহায়তা ও শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রমের উল্লেখ করেন।
বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তার নাতনির কথা উল্লেখ করেন, যিনি আরসেনালের একজন অন্ধ ভক্ত। এই ব্যক্তিগত তথ্য শোনার পর ওজিলের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, যা উভয় পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশকে আরও দৃঢ় করে।
আনোয়ার ইব্রাহিম ওজিলকে মালয়েশিয়ার তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ফুটবল, নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্ব সংহতি নিয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। ওজিলের উত্তর প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে তিনি ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার যুবকদের সঙ্গে এই বিষয়গুলোতে আলোচনা করবেন।
এই বৈঠকটি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুরূপভাবে, আনোয়ার ইব্রাহিম গত মঙ্গলবার তুরস্কে সরকারি সফর করেন, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন। এই সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে তুরস্ক ও মালয়েশিয়া উভয়ের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। গাজা ইস্যু এবং মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত সমন্বিত পদক্ষেপগুলো দু’দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালয়মেইল জানায়, উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্প এবং মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই বৈঠকটি তুর্কি-মালয়েশিয়ান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



