চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্বে আসা আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার কাছাকাছি শারীরিক হেনস্তা করা হয় এবং একই সময়ে চারজন চাট্রা লীগ নেতার নেতৃত্বে তাকে প্রো‑ক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ভবনের সামনে, যেখানে সাক্ষীরা শিক্ষককে তাড়া করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন।
হেনস্তার পর শিক্ষককে তীব্রভাবে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রো‑ক্টর অফিসের দরজায় পৌঁছে, তার মোবাইল ফোনে তল্লাশি করা হয়। ফোনে কোনো ডেটা মুছে ফেলা বা নথি চুরি করার কোনো দাবি উল্লেখ করা হয়নি, তবে তল্লাশির সময় শিক্ষককে শারীরিকভাবে ধাক্কা দেওয়া হয়।
হাসান মোহাম্মদ আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রো‑ক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ক্যাম্পাসে বামপন্থী ও আওয়ামী পার্টির কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা তার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রকাশ করে।
হেনস্তার পর প্রো‑ক্টর অফিসে পৌঁছানোর সময় শিক্ষককে তাড়া করে নিয়ে যাওয়া চারজন চাট্রা লীগ নেতার মধ্যে একজনের নেতৃত্বে গতি বাড়ানো হয়। অফিসে পৌঁছে, প্রো‑ক্টর অফিসের কর্মীরা এবং চাট্রা লীগ নেতারা একসাথে শিক্ষককে ফোনে তল্লাশি করে। এই সময়ে শিক্ষককে তীব্রভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং তার মোবাইলের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করা হয়।
হেনস্তার পর শিক্ষককে আইন অনুষদ ডিনের সঙ্গে কথা বলতে পাঠানো হয়। ডিনের উপস্থিতির খবর পেয়ে শিক্ষক দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন, তবে গাছের শিকড়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। আহত অবস্থায় তিনি গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যথা অনুভব করেন।
আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি ঘটনাটিকে হেনস্তা হিসেবে অস্বীকার করে, বলেন যে শিক্ষককে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়নি এবং তিনি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নন। রাব্বি আরও উল্লেখ করেন যে, হাসান মোহাম্মদ সহকারী প্রো‑ক্টরের দায়িত্বে থাকাকালীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ভূমিকা পালন করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তের অধীনে রয়েছে।
চাট্রা লীগ দপ্তরের সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমানও একই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করে, জানান যে শিক্ষককে কোনোভাবে মারা যায়নি এবং তিনি কেবল গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যথা পেয়েছেন। নোমান বলেন, প্রো‑ক্টর অফিসে উপস্থিত থাকা সময়ে শিক্ষককে ফোনে তল্লাশি করা হয় এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো গুরুতর ক্ষতি হয়নি।
হাসান মোহাম্মদ নিজে জুলাই ২০২২ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের কোনো অংশগ্রহণের অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে তিনি একদিনের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হননি এবং কোনো বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি। এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের কোনো বোর্ডের সদস্যও ছিলেন না এবং সহকারী প্রো‑ক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোনো শিক্ষার্থীকে মামলা দায়ের করেননি।
প্রশাসনিক তদন্ত এখনও চলমান, যেখানে শিক্ষককে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের অধিকার রক্ষার জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োগ করা উচিত, তা নিয়ে পাঠকদের মতামত জানার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



