মার্কিন বিশেষ বাহিনীর দল ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গোপন অপারেশনে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচার অভিযোগে বিচারাধীন করে। এই পদক্ষেপের আগে ভ্যাটিকান কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়, তবে মাদুরোর প্রত্যাখ্যানের ফলে সেগুলো ব্যর্থ হয়।
মার্চের শেষের দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি নিয়ে গৃহীত কঠোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ভ্যাটিকান রোমে জরুরি কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে। ক্রিসমাসের প্রাক্কালে ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রায়ান বার্চকে ডেকে ভেনেজুয়েলা বিষয়ক তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পারোলিন বার্চকে জিজ্ঞাসা করেন, ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা নীতি কি কেবল মাদক চোরাচালান দমনেই সীমাবদ্ধ, নাকি শাসন পরিবর্তনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।
এদিকে, পারোলিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রাখেন, যাতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তার বারবারের প্রচেষ্টার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা গড়ে ওঠে না।
কূটনৈতিক আলোচনার সময় পারোলিন রাশিয়ার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে রাশিয়া মাদুরোকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে ইচ্ছুক ছিল এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে মাদুরোকে আর্থিক সহায়তা এবং নিরাপদ গন্তব্যের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়।
রাশিয়ার এই প্রস্তাবের বিষয়ে অবগত এক সূত্র বলেন, মাদুরোকে বিদেশে চলে গিয়ে তার সম্পদ ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে, এবং পুতিনের সরাসরি নিরাপত্তা গ্যারান্টি থাকবে। তবে মাদুরো এই প্রস্তাবের কোনো স্বীকৃতি দেননি।
মাদুরোর প্রত্যাখ্যানের এক সপ্তাহ পর, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর দল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে তাকে এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে গোপনভাবে বেরিয়ে আসে। তারা দুজনকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক পাচার মামলায় বিচার করার জন্য প্রস্তুত করে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভ্যাটিকানের ওই গোপন বৈঠকটি মার্কিন, রাশিয়া, কাতার, তুরস্ক এবং ক্যাথলিক চার্চের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ ছিল, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আগে মাদুরোকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো। এই প্রচেষ্টার বিশদ আগে প্রকাশিত হয়নি।
ভ্যাটিকান পরে জানায়, গোপন কথোপকথনের কিছু অংশ প্রকাশিত হওয়া পুরো আলোচনার প্রকৃত স্বরকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। তারা জোর দিয়ে বলে যে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলায় শান্তি বজায় রাখা এবং মানবিক সমাধান খুঁজে বের করা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে মাদুরোকে নির্বাসনে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ছিল। তবে মাদুরোর প্রত্যাখ্যানের ফলে এই কূটনৈতিক বিকল্পটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং নিউ ইয়র্কে তার বিচার প্রক্রিয়া ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, তবে অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।
ভেনেজুয়েলায় বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি এবং ভ্যাটিকানের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ব্যর্থতা, ভবিষ্যতে অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



