বিএনপি দল তার নতুন চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেছে। দলটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে শনিবার রাত ঢাকার একটি হোটেলে সম্পাদকগণকে সমাবেশের সময় তারেক রহমান বললেন, “আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। সেই সময়ে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলকে অতীতের অস্থিরতা থেকে দূরে রাখার ইচ্ছা জোর দিয়ে প্রকাশ করেছেন।
তারেক রহমানের মন্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “আমাদের মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু সেটা মতবিভেদ পর্যায়ে না।” তিনি দলীয় অভ্যন্তরে মতবৈচিত্র্য স্বীকার করে তা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক সংহতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই ঘোষণার পটভূমিতে রয়েছে তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের নির্বাসনকাল। যুক্তরাজ্যে দেড় দশকেরও বেশি সময় কাটিয়ে তিনি ২৫ ডিসেম্বর তার পরিবারসহ দেশে ফিরে আসেন। এই ফিরে আসা তারেকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
তারেকের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, দেশে ফিরে আসার পাঁচ দিন পর, ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একজনের এই প্রস্থান রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর শোকে ডুবিয়ে দেয় এবং বিএনপি দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তোলে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশ দিন পর, শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি দলীয় শীর্ষস্তরে দ্রুত নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন।
বৈঠকের পরপরই তারেক রহমান একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। হোটেলের সম্মেলন কক্ষে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাজনৈতিক কৌশল এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেন। তারেকের বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি দলকে পুনর্গঠন ও নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, শীর্ষ পর্যায়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সরকারী পক্ষের মুখপাত্রের কাছ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল দলকে সংলাপের পথে এগিয়ে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরনের নীরবতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারী দল এখনো নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেনি।
বিএনপি নতুন নেতৃত্বের অধীনে কী ধরনের রাজনৈতিক চালনা গ্রহণ করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, দলীয় সংগঠন পুনর্গঠন এবং ভোটার বেসের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন এই নতুন চেয়ারম্যানের প্রধান কাজের মধ্যে থাকবে।
তবে তারেক রহমানের এই শপথ এবং ঘোষণার পরবর্তী ধাপগুলোতে দলীয় অভ্যন্তরে মতবৈচিত্র্যের ব্যবস্থাপনা, নীতি নির্ধারণে সমন্বয় এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে অবদান রাখবে কিনা, তা সময়ের সঙ্গে প্রকাশ পাবে। এখন পর্যন্ত তারেকের বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে নতুন দিকনির্দেশে চালিত করতে চান, যা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিবিধি আনতে পারে।



