মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় র্যাব‑১০ দলের এক অভিযান চালু হয়, যেখানে ১০ জানুয়ারি শনিবার সকাল দশটায় অর্ধ‑দশটায় শ্রীনগর থানার দক্ষিণ জশুরগাঁও এলাকায় রোকসানা বেগম (৪৯) নামের এক নারীর ওপর গৃহবন্দী করা হয়। রোকসানা বেগমকে র্যাব‑১০ দল হস্তক্ষেপের পর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে, এবং তার বাসা থেকে মাদকদ্রব্যের বড় পরিমাণ জব্দ করা হয়।
রোকসানা বেগম শ্রীনগর উপজেলার স্যামসুদ্দি গ্রাম থেকে আসা, এবং তিনি মৃত আলাউদ্দিনের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তার নাম ও বয়স সংবাদে উল্লেখিত রূপে রাখা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।
অভিযানের ফলস্বরূপ, রোকসানা বেগমের বাসা থেকে মোট ৭২টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং প্রায় ৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। র্যাব‑১০ দল এই মাদকের আনুমানিক মূল্য ২১,৬০০ টাকা (ইয়াবা) এবং প্রায় এক হাজার টাকা (গাঁজা) হিসেবে নির্ধারণ করেছে। জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ ও মূল্য স্থানীয় মাদক দমন নীতি অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
গ্রেফতারকালে রোকসানা বেগমকে হাতকড়া পরিয়ে গৃহবন্দী করা হয় এবং তাকে শ্রীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। র্যাব‑১০ দল জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রীনগর জেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে বিক্রি করে আসছেন। এই তথ্য অনুসারে, তার অপরাধমূলক কার্যক্রমের পরিসর ব্যাপক এবং স্থানীয় মাদক বাজারে তার প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
অধিক তদন্তের পর, র্যাব‑১০ দল রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতিপর্ব শেষ হলে, তাকে শ্রীনগর থানায় হস্তান্তর করা হবে, যেখানে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মামলাটি অগ্রসর করবে এবং আদালতে উপস্থাপন করবে। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে, আদালত তাকে যথাযথ শাস্তি প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক দমন কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। র্যাব‑১০ দল এই অঞ্চলে মাদক সরবরাহের শৃঙ্খল ভাঙতে এবং অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। রোকসানা বেগমের গ্রেফতার এই প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, রোকসানা বেগমের মামলাটি শ্রীনগর থানা থেকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে, যেখানে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তদন্তকারী দল মাদক জাল ও সরবরাহের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একসাথে কাজ করে মাদক সমস্যার মূল শিকড় কাটার জন্য পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



