22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিল্যামকিন ইনস্টিটিউট শাহরিয়ার কবিরের অবিলম্বে মুক্তি দাবি

ল্যামকিন ইনস্টিটিউট শাহরিয়ার কবিরের অবিলম্বে মুক্তি দাবি

বেলারুশভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ল্যামকিন ইনস্টিটিউট ৭৫ বছর বয়সী লেখক, গবেষক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবিরের গ্রেপ্তার ও আটককে মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং বাংলাদেশ সরকারকে তার অবিলম্বে মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়েছে।

ল্যামকিন ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানব নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পরিচিত একটি সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী আইনি ও নৈতিক মানদণ্ডের অনুসরণে জোর দেয়। সংস্থার recent বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া কবিরের অধিকারকে যথাযথভাবে রক্ষা করছে না।

ইনস্টিটিউটের জানুয়ারি ৫ তারিখের প্রকাশিত বিবৃতিতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় ‘গুরুতর প্রক্রিয়াগত অনিয়ম’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থা দাবি করে, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির অধীনে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এর আগে, নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)ও কবিরের গ্রেপ্তারকে ‘আইনি মানদণ্ডের লঙ্ঘন’ বলে সমালোচনা করে, এবং তার মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে। এই আন্তর্জাতিক সমালোচনা ল্যামকিন ইনস্টিটিউটের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

শাহরিয়ার কবিরকে ১৭ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী এলাকায় গৃহবন্দি করা হয়, যা জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত রাজনৈতিক অস্থিরতার পরপরই ঘটে। তার গ্রেপ্তার পরপরই পুলিশ তাকে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত করে, যার মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সময়ের মামলাও অন্তর্ভুক্ত।

অভিযুক্ত হওয়া মামলাগুলোতে তাকে বারবার রিমান্ডে পাঠানো হয় এবং জেলখানায় রাখা হয়। যদিও তিনি একাধিকবার জামিনের আবেদন করেন, তবু আদালত তা মঞ্জুর করে না, ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।

একই সময়ে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তে তার বিরুদ্ধে একটি আলাদা মামলা চালু হয়। ল্যামকিন ইনস্টিটিউট উল্লেখ করে, তিনি অন্য মামলায় আটক থাকা অবস্থায়ই আইসিটিতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা’ সংক্রান্ত অভিযোগের মুখোমুখি হন।

এই আইসিটি মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের একটি কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় ঘটিত নিহতদের সঙ্গে সম্পর্কিত। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ আনে, যদিও তিনি কোনো সরকারী পদে ছিলেন না এবং সেই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সরাসরি যুক্তি নেই।

কবিরের বয়স ৭৫ বছর, এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত গবেষণা ও লেখালেখি করে আসছেন। তার কাজের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত। তবে, তিনি কখনো সরকারী দায়িত্বে ছিলেন না এবং হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।

ল্যামকিন ইনস্টিটিউটের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কবিরের গ্রেপ্তার, রিমান্ডে পাঠানো এবং আইসিটি মামলায় তার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা অনুসরণ না করার জন্য সংস্থা দায়িত্বশীল বলে গণ্য করেছে। সংস্থা এই বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।

সংস্থা এখন বাংলাদেশ সরকারকে কবিরের অবিলম্বে মুক্তি, তার ওপর আরোপিত অপরাধের রদবদল এবং অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবি জানিয়েছে। ল্যামকিন ইনস্টিটিউটের মতে, এই পদক্ষেপগুলো না নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও কঠোর সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়তে পারে।

শাহরিয়ার কবিরের দীর্ঘমেয়াদী আটক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। মানবাধিকার সংস্থার এই আহ্বান সরকারকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও আইনি দায়িত্বের আলোকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলা ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments