ইলেকশন কমিশন (ইসিকিউ) আজ কক্সবাজার-২ আসন নির্বাচনের জন্য জামাত‑ই‑ইসলামির সহকারী সচিব সাধারণ আহমদ হামিদুর রহমান আজাদের নোমিনেশনকে বৈধ বলে স্বীকার করেছে। আজাদের আপিলের পর্যালোচনা দুপুরের দিকে অনুষ্ঠিত হয় এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে তার প্রার্থীতা পুনরায় স্বীকৃত হয়।
আজাদ, যিনি জামাতের সহকারী সচিব সাধারণ পদে অধিষ্ঠিত, তার নোমিনেশন ২ জানুয়ারি নির্বাচনী স্ক্রুটিনির সময় বাতিল করা হয়েছিল। বাতিলের কারণ হিসেবে কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার মো. এ. মান্নান তখন একটি মামলার জটিলতা উল্লেখ করে জানান।
বাতিলের পর আজাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আরিফ আদালতে যুক্তি দেন যে, সংশ্লিষ্ট মামলাটি কোর্টের অবমাননা সংক্রান্ত এবং কোনো অপরাধমূলক অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত নয়। আরিফের মতে, রিটার্নিং অফিসার কোনো শুনানি না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়া ছিল।
ইসিকিউ জানিয়েছে যে, ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি) জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নোমিনেশন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল দাখিল হয়েছে। এই আপিলগুলোর পর্যালোচনা আজ ঢাকা, আগারগাঁও-এ ইসিকিউ অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
কমিশন জানিয়েছে যে, আপিলের শুনানি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন চলবে এবং সকল আবেদনকারীকে তাদের যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
আজাদের নোমিনেশন পুনরায় স্বীকৃত হওয়ায় জামাত‑ই‑ইসলামির কক্সবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে ইসিকিউয়ের সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে অন্যান্য প্রার্থীদের আপিলের ফলাফলও নির্বাচনী গতি পরিবর্তন করতে পারে।
ইসিকিউয়ের এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী সময়সূচি ও প্রার্থীদের প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়বে, বিশেষ করে যারা নোমিনেশন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছেন। কমিশন জানিয়েছে যে, সকল আপিলের ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করা হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
কক্সবাজার-২ আসনে জামাতের প্রার্থী আজাদ এখনো নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার সমর্থকরা পুনর্ব্যবস্থাপিত নোমিনেশনকে জয়ী হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। ইসিকিউয়ের সিদ্ধান্তের পরবর্তী পর্যায়ে অন্যান্য পার্টির কৌশল ও জোটের সম্ভাবনা পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
ইসিকিউ আগামী দিনগুলোতে আপিলের ফলাফল প্রকাশ করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে সকল প্রার্থীর নোমিনেশন চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করবে এবং ভোটারদের কাছে তাদের মেসেজ পৌঁছানোর জন্য প্রচারণা ত্বরান্বিত করবে।



