22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ, কক্সবাজারের বাসিন্দা উদ্বিগ্ন

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ, কক্সবাজারের বাসিন্দা উদ্বিগ্ন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় হোয়াইক্যং সীমান্তে শনি-শুক্র রাত থেকে শোনা গুলির শব্দের ফলে স্থানীয় মানুষ উদ্বেগে আচ্ছন্ন। মিয়ানমার অভ্যন্তর থেকে আসা এই গোলাগুলি শোনার পর বাংলাদেশ গার্ড (বিজিবি) সীমান্ত পারাপার বন্ধ রাখতে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে।

শুক্রবার রাত ৯টার কাছাকাছি হোয়াইক্যং উত্তর পাড়া সীমান্তে গুলির আওয়াজ শোনা যায়, যা থেমে থেমে শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাত্রিকালীন সময়ে ধারাবাহিক গুলির শব্দে ঘুমাতে পারেনি এবং কিছু পরিবার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম গার্ডের কর্মীদের নির্দেশ দেন যে, সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে কোনো অস্থায়ী সংঘাতের ফলে এই গুলির শব্দ হতে পারে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার নিষিদ্ধ রাখা হবে।

এই সময়ে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলমগীর (৩১) নামের এক জেলে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। আলমগীর নাফ নদে মাছ ধরার সময় গুলির শিকার হন; তার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় নেতা সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তে রাতভর গুলির শব্দ শোনা যায় এবং বাসিন্দারা ক্রমশ বাড়তে থাকা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। আব্দুল আমিনের মতে, শুক্রবার রাতে একাধিক গুলির শব্দ শোনার পর ঘুমাতে পারা কঠিন হয়ে পড়ে, এবং তিনি আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিজিবি ইউনিটের ইউনিট কমান্ডার মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমও উল্লেখ করেন যে, গুলির শব্দের কারণে সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি যোগ করেন, নাফ নদে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে এখনও সেখানে যান, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সীমান্ত পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং গুলির উৎস চিহ্নিত করতে কাজ করছে।

এশিয়ান পারস্পরিক সহায়তা ও সহযোগিতা সংস্থা (ASEAN) এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি গুলির উৎস স্পষ্ট না হয়, তবে তা উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং সীমান্তে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ গার্ডের উপস্থিতি বাড়িয়ে সীমান্তে পর্যবেক্ষণ বাড়াবে এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গুলির উৎস নির্ণয় করবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, নাফ নদে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে, যাতে আরেকটি মানবিক দুর্ঘটনা না ঘটে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments