জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল (জেসিডি) পাঁচটি প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে পরাজয় মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ পরাজয় বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (JnUCSU) নির্বাচনে ইস্লামি ছাত্র শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলকে হেরেছে। এই ফলাফলগুলো বিএনপির যুব ভোটের সঙ্গে সংযোগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ১২.৭৭ কোটি ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। এ গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় চার মিলিয়ন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্ররা অন্তর্ভুক্ত। যুব ভোটারদের এই বিশাল অংশীদারিত্বের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ক্যাম্পাসের প্রভাব বাড়ানো কৌশলগত দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে জেসিডি দলকে ইস্লামি ছাত্র শিবিরের দল পরাজিত করেছে। শিবিরের জয়ী প্যানেলটি জামায়াত-ই-ইসলামির ছাত্র শাখা, যা বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। এই ফলাফলটি অনলাইন মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা বিএনপির বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য অতিরিক্ত প্রচারমূলক সুবিধা তৈরি করে।
এই পরাজয়ের আগে, জেসিডি দল গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে হেরেছে। এই চারটি ক্যাম্পাসের মোট ভোটারসংখ্যা এক লক্ষের বেশি, যা দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে ছাত্র সংগঠনগুলো নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং বৃহত্তর ভোটার ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক পরাজয়, বিশেষ করে শিবিরের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর শক্তি বৃদ্ধি, বিএনপির জন্য দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়, যদিও পার্টি জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করলেও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিদ বিভাগে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “ফলাফলগুলো দেশের বিভিন্ন কোণে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীদের সহায়তা করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিজয়ী ছাত্র গোষ্ঠীর গ্রাসরুট প্রচারণা জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক মজিবুর রহমানও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যখন নির্বাচিত শিবির নেতা জামায়াতের জন্য প্রচার চালায়, তখন তা বিরোধীর অবস্থানকে শক্তিশালী করে।” এই মন্তব্যগুলো ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক গতিবিধি ও জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে সরাসরি সংযোগ নির্দেশ করে।
বিএনপি এখন ক্যাম্পাসে তার প্রভাব পুনরুদ্ধার এবং যুব ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। তরুণ ভোটারদের সমর্থন না পেলে, পার্টির ঐতিহ্যবাহী ভোটারভিত্তি ও নির্বাচনী ফলাফল উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পরবর্তী সময়ে, বিএনপি কীভাবে ক্যাম্পাসে পুনরায় উপস্থিতি বাড়াবে, শিবিরের শক্তি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং যুব ভোটারদের আকৃষ্ট করতে কী ধরনের নীতি ও প্রচার চালাবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মূল দিক হয়ে থাকবে।



