রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ATM আজম খান ধর্মীয় রূপক ব্যবহার করে বক্তব্য রাখেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন; উভয়ই স্থানীয় রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
আজম খান উল্লেখ করেন, ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ইসমাইল (আ.)কে কোরবানি করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, পীরগাছা-কাউনিয়ার অসংখ্য নারী-পুরুষের কোরবানি বাস্তবে বৃহত্তর এবং তা সত্যিকারের কোরবানি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তার মন্তব্যের শেষে তিনি আলহামদুলিল্লাহ বলে সমাপ্তি টানেন।
বক্তব্যটি সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। অনলাইন ব্যবহারকারীরা মন্তব্যে উল্লেখ করেন, এমন তুলনা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং জনমতকে বিভাজিত করতে পারে।
ATM আজম খান পূর্বে রংপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির জোটগত সমঝোতার ফলে তিনি ঐ আসন থেকে প্রত্যাহার করেন এবং কোনো মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে পদত্যাগ করেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে জোটের কৌশলগত সমন্বয় রয়েছে; জামায়াত ও এনসিপি একত্রে ১১ দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনী প্রান্তিকতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। আজম খান এই জোটের মধ্যে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন জানান, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন দিক নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, আজম খানের মন্তব্য এবং তার পরে সামাজিক প্রতিক্রিয়া উভয়ই স্থানীয় ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়লে জোটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যখন ধর্মীয় বিষয়গুলো নির্বাচনী কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামের জোট থেকে প্রত্যাহার এবং এনসিপি প্রার্থীর সমর্থন তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্দেশ করে। যদি তিনি এনসিপি জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকেন, তবে রংপুর-৪ আসনে তার প্রভাব পুনরায় গড়ে তুলতে পারেন। তবে ধর্মীয় মন্তব্যের ফলে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও জোটের মধ্যে তার অবস্থান উভয়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত সমালোচনার পাশাপাশি, স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোও মন্তব্যের বিরোধিতা করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতা দাবি করে। এই ধরনের চাপ নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব সৃষ্টি করতে পারে।
পরবর্তী সময়ে, রংপুর-৪ আসনের জন্য নির্বাচনী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ATM আজম খান এবং তার সমর্থক দলগুলোকে এই বিষয়টি কীভাবে সামলাবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও জোটগত সমঝোতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, পীরগাছা মতবিনিময় সভায় ATM আজম খানের ধর্মীয় রূপক ব্যবহার এবং ensuing সামাজিক সমালোচনা স্থানীয় রাজনীতির গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জোটের কৌশল, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা একসঙ্গে গঠন করবে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা।



