সৌদি আরবের মদিনা শহরে অবস্থিত মসজিদে নববীর কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা বিভাগ বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে মোট ৮,৩৩৫ শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করে হিফজ সম্পন্ন করেছে। এ সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় তেত্রিশজন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা মসজিদে নববীর শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও গতি নির্দেশ করে।
বছরের পুরো সময়কালে মসজিদে নববীর শিক্ষা প্রোগ্রামে দেশ-বিদেশের ৭১,০০০েরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪০,০০০ শিক্ষার্থী অনলাইন ও দূরশিক্ষা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করছেন, যা দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশেপাশে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি শিক্ষাচক্র বা হালাকাহ পরিচালিত হয়। এই চক্রগুলোতে এক হাজার পাঁচশোেরও বেশি পুরুষ ও নারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পাঠদান করেন, যা শিক্ষার গুণগত মান ও প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
সুন্নাহ ও অন্যান্য ইসলামী গ্রন্থের জ্ঞান অর্জনের জন্যও ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭৩৫ শিক্ষার্থীকে ইজাজা (সনদ) প্রদান করা হয়, ফলে ২০২৫ সালে মোট এক লাখ ছিয়াশি হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই সনদ পেয়েছেন। তদুপরি, প্রায় পঁচিশ হাজার শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও ইসলামী জ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থের মুখস্থ সম্পন্ন করেছে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পরিবহন সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া, হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা বারো লক্ষেরও বেশি হাজি ও মুসল্লিকেও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রমে মোট ব্যয় ৩৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি ঘণ্টা সময়ের সমান, যা শিক্ষার বিস্তৃতি ও গুণগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ নির্দেশ করে। একই সময়ে দুই লক্ষেরও বেশি নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এবং কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে দুই লক্ষেরও বেশি সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, যা মসজিদে নববীর আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক পরিবেশকে তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ লাখের বেশি খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, যা তাদের শারীরিক সুস্থতা ও মনোযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
মসজিদে নববীর কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা বিভাগ ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোরআন ও হাদিস শিক্ষার প্রচার আরও শক্তিশালী হয়।
আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা মসজিদে নববীর শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম সম্পর্কে আরও জানার ইচ্ছা থাকে, তবে মন্তব্যে জানান; আপনার মতামত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।



